কৌশিক সেন, রায়গঞ্জ:  লকডাউনের জেরে ব্যবসায় মন্দা, খদ্দেরের দেখা নেই বললেও চলে। কিন্তু দীর্ঘ দু'দশকের অভ্য়াস আর কী অত সহজে বদলানো যায়! জাতীয় সড়কে ধারে হাতেগরম খাবার নিয়ে সকাল-সন্ধে অপেক্ষা করেন 'শক্তিদা'। জল ছিটিয়ে আশেপাশটা পরিষ্কার রাখার কাজও চলে নিয়মিত।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব মেনে বনদেবীর পুজো, গরুমারা অভয়ারণ্যে চলল 'প্রকৃতির আরাধনা'

রায়গঞ্জ শহর থেকে দূরত্ব খুব বেশি নয়। নাগর সেতুর পাশে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে হোটেল চালান শক্তি সাহা। পোশাকি নাম গান্ধার হোটেল। কিন্তু সে নামটি কি আদৌ কেউ জানেন? সড়কপথে মালদহ থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাঁদের নিত্য যাতায়াত, তাঁরা সকলেই হোটেলটিকে 'শক্তিদার ধাবা' নামে চেনেন। এই হোটেলের ইউএসপি ঘরোয়া বাঙালি পদ আর খাবারের অতুলনীয় স্বাদ। সকাল-দুপুর কিংবা মধ্য়রাত, যখন যান না কেন, লোকেদের ভিড় এড়ানো যেত না। আর বসে খেতে চাইলে তো রীতিমতো লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হত। দু'টি শিফটে আলাদা ম্যানেজার, সর্বক্ষণ কাজ করতেন পনেরো থেকে ষোলোজন কর্মী। হোটেল মালিক নিজেও খদ্দের সামলাতেন মধ্যরাত পর্যন্ত। তখন না ছিল করোনা সংক্রমণের, না ছিল লকডাউন। 

আরও পড়ুন: বনবিবির পূজো দিয়ে শুরু, বাংলার টাটকা ইলিশের খোঁজে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেবেন মৎস্যজীবীরা

করোনার আতঙ্ক যেন রাতারাতি বদলে দিল সবকিছু! লকডাউনের জন্য মাস তিনেক বন্ধ ছিল 'শক্তিদার ধাবা'। হোটেল মালিক শক্তি সাহা জানালেন, 'সরকার অনুমতি দেওয়ার পর ফের হোটেল খুলেছি, কিন্তু বিক্রি প্রায় নেই। সারাদিনে মেরেকেটে সাত থেকে আটটা বাস চলে। ৩০ থেকে ৩৫ জন খাচ্ছে। তাতে হোটেল চালানো ন্যূনতম খরচাও উঠে না।' তাহলে হোটেল খুলছেন না কেন? 'শক্তিদা'র জবাব,  'এতদিন পথ চলতি মানুষ খাওয়ার জন্য আমার হোটেলের উপরই ভরসা রেখেছেন। একসময়ে রান্না করার পর ঘণ্টা খানেকও খাবার রাখা হতো না। সেই অভ্যাসবশেই এখনও সবকিছু রেডি করে রাখি। কাস্টমার এলেই যাতে চটপট রান্না করে দিতে পারি!'