জন্মদিনের রাতেই বিতর্কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার কালিঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক FIR দায়ের হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জন্মদিনের রাতেই বিতর্কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার কালিঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক FIR দায়ের হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়ের হয়েছে মোট চারটি FIR, যার মধ্যে একাধিক মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। ৭ নভেম্বর অভিষেকের ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত করেছিলেন। রাত ২টো থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে তৃণমূল কর্মী ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে পুলিশের দাবি।
কালিঘাট থানায় মোট চারটি FIR দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছে। পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি FIR-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। অন্যদিকে, বাকি দুটি FIR রাজনৈতিক পক্ষগুলির অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয়েছে। অভিষেকের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। পাল্টা অভিযোগে বিজেপি কর্মীদের দায়ের করা FIR-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। সংঘর্ষের সময় কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংঘর্ষে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা-ও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁর বাড়ি ও অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলার আগে দু'দিন ধরে এলাকায় নজরদারি চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে কালিঘাটে তাঁর সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে গোটা ঘটনা নিয়ে অভিষেকের বক্তব্য এবং বিজেপির পাল্টা অভিযোগের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টা থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তৃণমূল কর্মী (যারা অভিষেকের ৩৯তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন) এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এর পাশাপাশি, বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকারের দায়ের করা পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের কনভয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, চলন্ত গাড়ির বাইরে পাদানিতে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে BNS এবং মোটর ভেহিকলস আইনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি, অভিষেকের গাড়িবহর নিয়মিতভাবে সড়ক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালান এবং অন্যান্য রক্ষীরা চলন্ত গাড়ির বাইরের অংশে ঝুলে থাকেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিষেকের অনেক নিরাপত্তারক্ষীকে প্রায়শই তাঁর চলন্ত গাড়ির বাইরের ফুটরেস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে করা অভিযোগে রাজীব সরকার মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্টের ১২৩ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছেন, যা চলন্ত গাড়ির বাইরে ঝুলে থাকা চালক বা যাত্রীদের জন্য নিষিদ্ধ। এছাড়া তিনি ১৮৪ নম্বর ধারার কথাও উল্লেখ করেছেন, যা বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর জন্য শাস্তির বিধান দেয়। পুলিশের কাছে দায়ের করা এই নতুন অভিযোগগুলো তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতার তালিকায় আরও একটি সংযোজন। উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)—উভয় সংস্থাই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে।
স্বাক্ষর অমিল সংক্রান্ত একটি চলমান তদন্ত তাঁর আইনি সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়র দায়ের করা একটি মানহানির মামলায়, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এছাড়া ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রে অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।














