Abhishek Banerjee:দফায় দফায় উত্তাল কালীঘাট। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিজেপির। প্রাথমিক তদন্তে তেমনই অনুমান পুলিশের। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজেপির লোকজন। অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ।
দফায় দফায় উত্তাল কালীঘাট। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিজেপির। প্রাথমিক তদন্তে তেমনই অনুমান পুলিশের। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিজেপির লোকজন। শনিবার এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের দাবি
এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বিরোধী দলের কর্মী, কলকাতা পুলিশ এবং উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তৃণমূল নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের দাবি, গত রাত ২টোর সময় 'বিজেপির গুন্ডারা' তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়।
তিনি লেখেন, "আজ সকালে রেকির ভিডিও প্রকাশ করার পর, ঠিক রাত ২টোর সময় কলকাতা পুলিশের নজরদারির মধ্যেই বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়িতে হামলা চালাল।"
কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এই সব ঘটনা ঘটার সময় নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ। আমি খুব শিগগিরই ভিডিওগুলো আপলোড করব।"
এর আগে শুক্রবার অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন যে, গত দু'দিন ধরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর বাড়ির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ধরা পড়ার পর ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পুলিশ আধিকারিক বলে দাবি করে। তিনি বলেন, "গত দু'দিন ধরে কয়েকজন অচেনা লোক আমার অফিস এবং বাড়ির রেইকি করছে। তাদের মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিচে দেওয়া হলো। মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা নিজেদের পুলিশ কর্মী বলে দাবি করে।" একজন নির্বাচিত সাংসদের বাড়ির চারপাশে কলকাতা পুলিশ কেন এভাবে নজরদারি চালাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি প্রশ্ন করেন, "রাজ্য পুলিশ কেন একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের অফিস এবং বাড়িতে গুপ্তচরবৃত্তি ও নজরদারি চালাচ্ছে? কে এই নজরদারির অনুমতি দিল এবং এর উদ্দেশ্য কী?"
বিষয়টিকে 'সন্দেহজনক ষড়যন্ত্র' আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। কে এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে এবং এই গোপন নজরদারির পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, "আমি এই অত্যন্ত গুরুতর বিষয়ে অবিলম্বে লোকসভার মাননীয় স্পিকার @ombirlakota, @kolkata_police, @HMOIndia এবং @WBPolice-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে, কে তাদের পাঠিয়েছে এবং এই সন্দেহজনক ষড়যন্ত্রের পেছনের জঘন্য উদ্দেশ্য ফাঁস করতে আমি অবিলম্বে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।"
ঘটনার সূত্রপাত
শনিবার ৭ নভেম্বর অর্থাৎ আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষ্যে শুক্রবার মধ্যরাতের পরই তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন তাঁর ও কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের অনুগামীরা। অভিযোগ সেখানেই রাত ২টো নাগাদ হাজির হয় বিজেপি কর্মীরা। তারাই 'চোর চোর' স্লোগান দিতে শুরু করে। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি , কাটআউট সবই ছিঁড়ে ফেলা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা তাতে বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তারপরই তা হাতাহাতির পর্যায় পৌঁছে যায়। রাতেই অভিষেক বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। সেই সময় তিনি বলেন, 'হামলা করে আমাকে প্রাণে মারার চক্রান্ত চলছে।' পুলিশকেও বিজেপি কর্মীরা মেরেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির দাবি
যদিও বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। পাল্টা কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যদের বিরুদ্ধেই অশান্তি তৈরির অভিযোগ তুলেছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, 'মানুষ যখন হেরে যায় সেই সময় এইধরনের কথা বলে। '














