Abhishek Banerjee PA News: চাকরি প্রতারণা মামলায় ভবানী ভবনে হাজিরা থেকে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়ের। সিআইডি-র মুখোমুখি জেরায় কী বললেন সুমিত রায়? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Abhishek Banerjee PA News: ডেবরা থানায় চাকরি প্রতারণা মামলা | CID-তে হাজিরা অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় CID-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি সুমিত রায়।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে? 

অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা পৌঁছে গিয়েছিল অভিষেকের আপ্ত সহায়ক কাছে। এই মামলায় তৎকালীন মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরার নামও রয়েছে। অভিযোগকারী প্রসেনজিৎ রায়ের দাবি, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ জন চাকরিপ্রার্থীকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তার বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে মোট প্রায় ১২ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুজয় হাজরা চাকরিপ্রার্থীদের আশিক কাজি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। আশিক কাজি নিজেকে নবান্নের সরকারি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর চাকরিপ্রার্থীদের খাদ্য ভবন ও বিকাশ ভবনের মতো সরকারি দফতরে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

চাকরি না হওয়ার পর আরও টাকা দাবি করা হয় এবং সেই টাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের PA-র জন্য লাগবে বলে বলা হয়েছিল—অভিযোগে এমন দাবি করেছেন প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীরা। পরে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে জাল নিয়োগপত্রের রঙিন ফটোকপি তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

তারপর সেই নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিতে যোগ দিতে যান, তখন জানতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। এরপর টাকা ফেরত চাইলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

রাজ্যে পালাবদলের পর গত গতি জুন মাসে ডেবরা থানায় অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় ছাড়াও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুযোগ হাজরা ও আশিক কাজির নামে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৩ জুন FIR রুজু করে ডেবরা থানা। পরে তদন্তভার চলে আসে সিআইডি কাছে সেই FIR এ সুমিত রায়, সুজয় হাজরা ও আশিক কাজির নামে রয়েছে। সুজয় হাজর, আশিক কাজির গ্রেফতার হলেও, সুমিত রায় এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ ছিল ১০ দিনের মধ্যে সিআইডি দফতরে গিয়ে কাছে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সেই মামলাতেই আজ সিআইডি তলব অনুযায়ী হাজিরা দিয়েছেন

সুমিত রায়ের CID হাজিরায় মূলত কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—

* সুজয় হাজরার সঙ্গে সুমিত রায়ের যোগাযোগ ও সম্পর্কের ধরন।

* চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার ঘটনায় সুমিতের সরাসরি বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না।

* চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় সুমিত রায়ের নাম কেন ব্যবহার করা হয়েছিল।

* আশিক কাজির সঙ্গে সুমিতের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না।

* জাল নিয়োগপত্র কোথা থেকে তৈরি বা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

* খাদ্য ভবন ও বিকাশ ভবনে কথিত ভুয়ো মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা কারা করেছিল।

* অভিযোগে থাকা টাকা লেনদেনের সঙ্গে সুমিতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অন্য আর্থিক যোগাযোগের কোনও যোগ রয়েছে কি না।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।