- Home
- West Bengal
- Kolkata
- Annapurna Bhandar: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম জমা পড়তেই খালি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! এই ভুল আপনিও করছেন না তো?
Annapurna Bhandar: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম জমা পড়তেই খালি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! এই ভুল আপনিও করছেন না তো?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নামে বিরাট প্রতারণা মহিলার সঙ্গে! ফর্ম জমা পড়তেই পুরো খালি করে দেওয়া হল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! ভাতার ৩০০০ টাকা ঢোকার বদলে উলটে নিজের অ্যাকাউন্টের টাকাই হয়ে গেল গায়েব। আপনিও এই ভুলটা কোনওভাবেই করবেন না। সতর্ক হন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার আশায় আবেদন করছেন? তাহলে সাবধান। সরকারি প্রকল্পের নাম করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা হাতিয়ে নিতে পারে সাইবার প্রতারকরা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা-১ নম্বর ব্লকের বাঁকা ভবানীপুরের এক গৃহবধূর অভিযোগ ঘিরে এমনই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশনের নাম করে ফোন করে প্রথমে টাকা পাঠাতে বলা হয় তাঁকে। এরপরই তাঁর ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অনলাইন লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হ্যাক হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকাই গায়েব হয়ে যায়।
ঘটনার কথা জানিয়েছেন বাঁকা ভবানীপুরের বাসিন্দা গৃহবধূ রিঙ্কু মণ্ডল হাতি। তাঁর দাবি, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে বলা হয়, বিডিও অফিস থেকে ফোন করা হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন করা হবে।
কীভাবে ফাঁদে ফেলা হয়?
রিঙ্কুর অভিযোগ, ফোনে তাঁকে বলা হয় অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকেনি। সেই টাকা পেতে গেলে কিছু টাকা পাঠাতে হবে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটি ইউপিআই নম্বরও দেওয়া হয়। বলা হয়, সেখানে টাকা পাঠালেই পরে সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।
সরকারি প্রকল্পের টাকা পাওয়ার আশায় ওই কথায় বিশ্বাস করে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেন রিঙ্কু। এরপর তাঁকে আরও টাকা পাঠাতে বলা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু দ্বিতীয়বার টাকা পাঠাতে রাজি না হওয়াতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
টাকা পাঠাতেই বন্ধ ফোন!
রিঙ্কুর দাবি, টাকা পাঠানোর পরই তাঁর ফোনে সমস্যা দেখা দেয়। ফোন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি দেখতে পান, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ এবং অনলাইন ট্রানজ্যাকশনের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকা চলে যায় এবং ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায়।
যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেখানে পালটা ফোন করারও চেষ্টা করেন ওই গৃহবধূ। কিন্তু ফোন ধরলেও অপর প্রান্ত থেকে কথা না বলে কল কেটে দেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
আপনিও এই ভুল করবেন না
এই ঘটনা থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল—কোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য ফোনে কাউকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন না। সরকারি দফতরের নাম করে কেউ ফোন করলেও প্রথমেই তাঁর পরিচয় এবং তথ্য যাচাই করুন। কোনও অপরিচিত ব্যক্তিকে কখনও UPI PIN, OTP, ATM বা ডেবিট কার্ডের তথ্য, CVV কিংবা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য দেবেন না।
বিশেষ করে ‘ভেরিফিকেশন’, ‘কিস্তির টাকা আটকে রয়েছে’, ‘অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে হবে’—এই ধরনের কথায় তড়িঘড়ি বিশ্বাস করবেন না। অচেনা নম্বর থেকে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করা বা কোনও অ্যাপ ইনস্টল করাও এড়িয়ে চলুন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার আশায় যাতে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে নিজের সঞ্চয়ের টাকা হারাতে না হয়, সেজন্য সতর্ক থাকাই সবচেয়ে জরুরি। সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে গিয়ে আগে টাকা পাঠাতে বলা হলে সেটিই হতে পারে প্রতারণার বড় সংকেত।

