Adhir on Mamata: কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। বলেন, বাংলায় কংগ্রেসকে ধ্বংস করার চেষ্টা করার পর এখন নিজের শক্তি কমে যাওয়ায় মমতা সমর্থন চাইছেন। অধীরের শর্ত, আগে রাহুল গান্ধীকে INDIA জোটের নেতা হিসেবে মেনে নিতে হবে। 

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটা সময় যে দলগুলোকে মমতা ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন, এখন তাদের কাছেই সমর্থন চাইছেন। ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চৌধুরী বলেন, রাজ্যে ভোটের পর যে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনেরই ফল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অধীরের তোপ

অধীর বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে বাংলায় হওয়া সমস্ত হিংসার ফল এখন সামনে আসছে। উনি বাংলায় কংগ্রেস এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে শেষ করে দেওয়ার জন্য প্রচুর চেষ্টা করেছিলেন, আর আজ উনি নিজেই তার ফল ভুগছেন। শক্তি কমেছে বলে এখন সমর্থন চাইছেন। আগে ওনাকে রাহুল গান্ধীকে INDIA জোটের নেতা হিসেবে মেনে নিতে হবে, তারপর আমরা কিছু ভাবব।"

মমতার আর্জি

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল অভিযোগ করেন যে তাকে কলকাতায় রবীন্দ্র জয়ন্তী পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি তিনি বিজেপিকে আটকানোর জন্য সমস্ত "সমমনস্ক দল"-কে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।

মমতা বলেন, "তিনটি জায়গায় রবীন্দ্র জয়ন্তী পালনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। তাই আমি আমার বাড়িতেই অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিই। ওরা সমস্ত ডেকোরেটরকে বলে দিয়েছে যাতে কোনও সাহায্য না করা হয়... আমি সমস্ত সমমনস্ক দলকে অনুরোধ করছি বিজেপিকে আটকানোর জন্য।" যে বামেদের হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিলেন সেই বামেদেরও তাঁর সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট বাঁধার আবেদন জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি কংগ্রেসকেও ডেকেছিলেন তাঁর সঙ্গে যাওয়ার তাতেই রীতিমত তোপ দেগেছেন অধীর চৌধুরী।

হারের পরে মমতার বার্তা

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি "পদত্যাগ করবেন না"। ওই নির্বাচনে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে নেমে আসে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ১০০টি কেন্দ্রে "ভোট লুঠ"-এর অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, দলের প্রার্থীদের "জোর করে হারানো হয়েছে" এবং প্রায় ১৫০০ তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস "দখল করা হয়েছে"।

তিনি আরও বলেন, বাংলার ভোটের ফলাফলের পর INDIA জোটে ঐক্য আরও বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে নির্বাচন হয়নি, "অত্যাচার" হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে তৃণমূল কংগ্রেস "নৈতিকভাবে" বিজেপিকে নির্বাচনে হারিয়েছে।

তৃণমূল নেত্রী জানান, তিনি তাঁর লড়াই চালিয়ে যাবেন। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বাংলার INDIA টিম এখন ঐক্যবদ্ধ। আমি পদত্যাগ করব না। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই এটা একটা কালো দিন হোক। আমাদের শক্তিশালী থাকতে হবে। বিধানসভার প্রথম দিনে কালো পোশাক পরুন। যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। আমি হাসছি। আমি ওদের নৈতিকভাবে হারিয়ে দিয়েছি। আমি এখন মুক্ত পাখি। আমি সবার জন্য কাজ করেছি। আমরা হয়তো হেরেছি, কিন্তু আমরা লড়ব। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত।"