Malda Brinjal GI: ফজলি আম আর মালদা সিল্কের পর এবার GI ট্যাগের মুকুটে নতুন পালক। GI স্বীকৃতি পেল মালদার বিখ্যাত ‘আশাপুরের বেগুন’। গোলাকার, বেগুনি-সবুজ ডোরাকাটা আর তেল কম শোষার গুণের জন্য বিখ্যাত এই বেগুন।
Malda Brinjal GI: মালদার কৃষি দফতর আর চাষিদের জন্য বড় সুখবর। ফজলি আম, মালদা সিল্ক, মালদা খাসির পর এবার GI ট্যাগ পেল মালদার ঐতিহ্যবাহী ‘আশাপুরের বেগুন’। চেন্নাইয়ের GI রেজিস্ট্রি অফিস সম্প্রতি এই স্বীকৃতি দিয়েছে।

মালদা জেলার ইংরেজবাজার ব্লকের আশাপুর, কোতোয়ালি, বুলবুলচণ্ডী এলাকায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিশেষ প্রজাতির বেগুন চাষ হয়। স্থানীয়ভাবে একে ‘আশাপুরের গোল বেগুন’ বলা হয়। দেখতে গোলাকার, মাঝারি সাইজের। গায়ে বেগুনি আর হালকা সবুজ ডোরা কাটা থাকে।
মালদহের বেগুনে জিআই স্বীকৃতি:-
সবচেয়ে বড় গুণ হল এটি তেল কম শোষে, বীজ কম, শাঁস নরম আর একদমই তেতো নয়। ভাজা, বেগুনি, ভর্তা থেকে শুরু করে সব রান্নাতেই এর স্বাদ অতুলনীয়। পুষ্টিবিদদের মতে এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর ফাইবার বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও ভালো। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, মালদার পলি মাটি আর মহানন্দা নদীর জলের জন্যই এই বেগুনের স্বাদ অন্যরকম।
GI বা Geographical Indication ট্যাগ মানে হল কোনো নির্দিষ্ট জায়গার পণ্যকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া। এর ফলে নকল রুখে আসল পণ্যের আলাদা পরিচয় তৈরি হয়। কৃষি দপ্তরের আধিকারিক জানালেন, GI ট্যাগ পাওয়ায় আশাপুরের বেগুন এবার ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে গেল। প্যাকেটে GI লোগো থাকবে। ফলে দাম ২০-৩০% পর্যন্ত বাড়বে। দিল্লি, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর এমনকি বিদেশেও এক্সপোর্টের রাস্তা খুলে যাবে। মালদায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে আশাপুরের বেগুন চাষ হয়। ৫০-এর বেশি চাষি সরাসরি এই চাষের সাথে যুক্ত। GI ট্যাগের আবেদন করেছিল ‘মালদা ভেজিটেবল গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’। ২ বছর ধরে চলা প্রক্রিয়ার পর অবশেষে মিলল সাফল্য।
GI ট্যাগ পাওয়ার খবরে আশাপুরের চাষিদের মধ্যে খুশির হাওয়া। আশাপুরের চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, “বাজারে আমাদের বেগুন ‘বিহারের বেগুন’ বলে কম দামে বিক্রি হত। এবার GI ট্যাগ লাগানো বস্তা নিয়ে গেলে দাম ভালো পাব। ছেলেমেয়েদের মুখে হাসি ফুটবে।”
ফজলি আম ২০০৯ সালে, মালদা সিল্ক ২০১৪ সালে আর মালদা খাসি ২০২৩ সালে GI ট্যাগ পেয়েছিল। আশাপুরের বেগুন নিয়ে মালদার ঝুলিতে এখন মোট ৪টি GI পণ্য জমা হল। কৃষি দপ্তরের পরবর্তী লক্ষ্য হল ‘মালদার পান’ আর ‘গৌড়ের ল্যাংড়া আম’-কেও GI-এর আওতায় আনা।
GI ট্যাগ শুধু সম্মানই নয়, এটা মালদার কৃষির অর্থনীতিকে নতুন অক্সিজেন দিল। আশাপুরের বেগুন এবার শুধু মালদা নয়, গোটা দেশের পাতে জায়গা করে নেবে বলেই আশা।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


