North Bengal News: ভোটের আগে ফের শক্তি বাড়াচ্ছে কেএলওরা? কী বলছেন তারা? তাদের এই শক্তি প্রদর্শন আসন্ন বিধানসভা ভোটে  কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশগে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

North Bengal News: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের আন্দোলনে প্রাক্তন কেএলও এবং কেএলও লিংকম্যানরা। জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরের সামনে দিনভর চলল ধর্ণা, অবস্থান। যাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের প্রথম দিনেই চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল রাজনৈতিক মহলে । এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলার শতাধিক প্রাক্তন কেএলও এবং লিংকম্যানরা মিছিল করে জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরের সামনে আসেন। 

ভোটের আগে ফের পথে কেএলও-রা

নেতৃত্বে ছিলো কেএলও লিংকম্যান মহিলা মঞ্চ সমন্বয় কমিটি। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে মূলত তিনদফা দাবি নিয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। প্রথম দাবি, কামতাপুর অটোনমাস কাউন্সিল গঠন। পাশাপাশি প্রাক্তন কেএলও এবং লিংকম্যানদের চাকরি এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। এর আগে জেলার বেশ কিছু প্রাক্তন কেএলওদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও, উত্তরবঙ্গের প্রায় পাঁচহাজার প্রাক্তন কেএলও এবং লিংকম্যান এখনো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরন করেনি। এই দাবিগুলি নিয়ে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল একজন অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে তাদের স্মারকলিপি পেশ করে এদিন।

এরপর তারা জেলা শাসকের দফতর সংলগ্ন সড়কের ওপর ধর্নায় বসে পড়ে। এর জেরে ওই সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দিনভর চলে ধর্না অবস্থান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। এদিন সংগঠনের তরফে স্পস্ট করে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তাদের দাবি পূরণ করতে হবে । যে সরকার তাদের দাবি পূরণ করবে, নির্বাচনে তাকেই সমর্থন জানাবে সংগঠন ।

 অন্যদিকে, দাবিপূরণ না হলে অন্য পথ নেবেন বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা দাবিদাওয়া পূরণে কেন্দ্র এবং রাজ্য এই দুই সরকারের ওপর চাপ জিয়ে রাখতেই নির্বাচনের আগে ফের আন্দোলনের কৌশল নেওয়া হয়েছে সংগঠনের তরফে। এখন এই আন্দোলনের জল কোন দিকে গড়ায় এবং তার প্রভাব ভোক্সে পড়ে কি না তা সময়ই বলবে।

অন্যদিকে, ধূপগুড়িতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ব্লক সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। এই বিতর্কটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দলের অন্দরেই জাতিগত ও ধর্মীয় মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ব্লক সভাপতির নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক পোস্ট এবং পাল্টা পোস্ট শুরু হয়েছে।

এক পক্ষ চাইছে এলাকার ভূমিপুত্র তথা রাজবংশী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ছাত্র নেতা তথা ধুপগুড়ি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দীর্ঘদিনের ব্লক সভাপতি পদের দায়িত্বে থাকা কৌশিক রায়ের নাম গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়া হোক । অন্যদিকে, অপর একটি গোষ্ঠী সংখ্যালঘু প্রতিনিধিকে সভাপতি করার দাবি তুলছে।

এদিকে ধুপগুড়ি তে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রাজবংশী মুখ চাই এমন পোস্টে সরাসরি কৌশিক রায়ের ছবি দিয়ে পোস্ট করা হলেও অন্য গোষ্ঠীর তরফে কেবলমাত্র সংখ্যালঘু মুখ চাই এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে। কোন সরাসরি কারও ছবি পোস্ট করা হয়নি।২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরণের অভ্যন্তরীণ বিবাদ দলের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব বা জেলা কমিটি এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ধূপগুড়ির রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল চলছে । তবে এ বিষয়ে কৌশিক রায়ের সাফ দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ কখনো ধর্মীয় ভেদাভেদ কিংবা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না। সম্প্রীতির বাতাবরণে তৃণমূল কংগ্রেস চলে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের এই পোষ্টে কোনরকম গোষ্ঠী কোন দল নেই বলেও দাবি কৌশিক রায়ের। এই দ্বন্দ্ব তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার লড়াইয়ে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।