BJP Vs TMC: এক বিজেপি কর্মী ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে দাবি করলেও তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিজেপি কর্মী ও তাঁর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ, ঘটনায় চাঞ্চল্য বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাদিনগর এলাকায়। গুরুতর আহত হয়েছেন এক বিজেপি কর্মী ও তাঁর স্ত্রী। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

মারধরের কারণ
পরিবারের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তাঁদের উপর তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিত বলেও অভিযোগ। পরিবারের দাবি, তাঁরা বিজেপিকে ভোট দেওয়ার পর থেকেই পড়শিদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং একাধিকবার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগ, আচমকাই হাসুয়া, লাঠি সোটা নিয়ে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে হামলা চালায়। বিজেপি কর্মী ও তাঁর স্ত্রী বাড়ির বাইরে থাকাকালীন তাঁদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরে গুরুতর জখম হন দু’জনেই। বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর মাথায় আঘাত লাগে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির চারপাশে ইট ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
পরিবারের নিশানায় তৃণমূল কংগ্রেস
আহত বিজেপি কর্মীর মেয়ে জানান, “আমার মা ও বাবা বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের উপর হামলা চালায়। ফেলে দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। আমাদেরও বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল। পরে বাবা-মা কিছুটা সচেতন হলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
ঘটনার খবর পেয়ে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বিজেপি বনাম তৃণমূল
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানতোর। দক্ষিণ মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি তারক ঘোষ বলেন, “বিজেপি সমর্থক পরিবারের উপর যেভাবে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তৃণমূল ভুলে গেছে তারা আর সরকারে নেই। প্রশাসনের কাছে আবেদন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হোক। আমরা পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও নজরে রাখছি।” আজকে বাংলার জনগণ এ তৃণমূলকে বাংলা থেকে উৎখাত করে দিয়েছে কিন্তু তৃণমূলের এখনো বেশ কিছু গুন্ডা রয়েছে তাদেরকেও ধরে জেলে ভড়তে হবে।
অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, “ঘটনার কথা শুনেছি। এখন কিছু হলেই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম জড়ানো হচ্ছে। কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আসল ঘটনা কী, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। আমরা যতদূর শুনেছি, এটি দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গ্রাম্য বিবাদের ঘটনা।”


