- Home
- West Bengal
- Kolkata
- DILIP Ghosh: ৫৩ লক্ষ টাকার লাক্সারি বাইকে সওয়ার দিলীপ ঘোষ, 'দাবাং' মেজাজে বিঁধলেন তৃণমূলকে
DILIP Ghosh: ৫৩ লক্ষ টাকার লাক্সারি বাইকে সওয়ার দিলীপ ঘোষ, 'দাবাং' মেজাজে বিঁধলেন তৃণমূলকে
DILIP GHOSH: ৫৩ লক্ষ টাকার বিলাসবহুল বাইকে চেপে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর ‘দাবাং’ স্টাইল ও রাজনৈতিক বার্তা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

দাবাং মেজাদে দিলীপ
কলকাতায় থাকলে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণে বার হল বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সেই পথে হেটেই গিয়েছিলেন ইকো পার্কে। তবে এদিন দিলীপ ঘোষকে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে।

বাইকে দিলীপ ঘোষ
এবার ৫৩ লক্ষ টাকার বাইক চালিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন দিলীপ ঘোষ। আর দিলীপ ঘোষের সেই ছবি সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছে।
ডোন্ট কেয়ার দিলীপ ঘোষ
এদিন মোটের ওপর ডোন্ট কেয়ার মেজাজেই ছিলেন দিলীপ ঘোষ। সাদা টিশার্ট আর সাদা শর্টসে ৫৩ লক্ষ টাকার বাইক চালালেন দাবাং মেজাজে। দিলীপ ঘোষ কোনও দিনই কারো পরোয়া করেন না। তিনি যেটা প্রাণ চায় সেটাই করেন। তাঁর এই আচরণের জন্যই তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও
বেশি।
বাইকে সওয়াল দিলীপ ঘোষ
বৃহস্পতিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণের ফাঁকেই তাঁর সাধ হয় বাইক চালানোর। যেমন ভাবা তেমন কাজ, ৫৩ লাখি বাইকে উঠে পড়েন তিনি। পিছনে একজনকে বসিয়ে নিজে বাইক চালিয়ে ঘোরেন ইকো পার্কের ভিতরে। এর আগেও দিলীপকে বাইক চালাতে দেখা গিয়েছিল। তবে এই বিলাসবহুল বাইকে দিলীপের ভিডিও মন কেড়েছে নেটিজেনদের
তৃণমূলকে নিশানা
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ শুক্রবার বলেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) "ভেঙে পড়ার দিকে এগোচ্ছে"। তাঁর অভিযোগ, এই দল কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে টাকা লুঠ করেছে এবং তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন যে তৃণমূলে "উপর থেকে নীচ পর্যন্ত" দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা জনগণের প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের সম্পত্তি বাড়িয়েছেন।
তৃণমূল ভেঙে পড়ার মুখে
তিনি বলেন, "তৃণমূলে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দুর্নীতি চলছে। ধাপে ধাপে পুরো সংগঠনটাই ভেঙে পড়ার মুখে... তৃণমূল নেতারা নিজেদের ভাগ্য ফিরিয়েছেন। এটা তাঁদের টাকা নয়; এটা গরিব মানুষের সম্পদ, যা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্প থেকে লুঠ করা হয়েছে। তাঁদের বিচার হওয়া উচিত।"
জনমুখী প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এই ধরনের সুবিধা পাওয়ার জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকা আবশ্যক। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আইনটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের জন্য, যাঁরা এখনও নাগরিকত্ব পাননি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, "শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পই নয়। ভারত সরকার এবং রাজ্য সরকার নাগরিকদের যে কোনও সুবিধা দিক না কেন, তা পাওয়ার প্রথম শর্ত হল তাঁকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। যাঁরা এখনও নাগরিকত্ব পাননি বা হারিয়েছেন—বিশেষ করে বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীরা—তাঁদের জন্য CAA রয়েছে।"
সরকারি প্রকল্পে নতুন করে নাম লেখানোর আহ্বান
তিনি সাধারণ মানুষকে এই ধরনের সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানান এবং বলেন যে অ-নাগরিকরা অন্যথায় সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, "তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা উচিত, তাহলেই তাঁরা সুবিধা পাবেন। তা না হলে, সমস্ত অ-নাগরিক সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তাঁদের এই দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে; সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।"
লুঠের অভিযোগ
তৃণমূল সরকারের আগের কাজের সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, চাকরি বিক্রি, ঘুষ এবং লুঠপাটের সুবিধার জন্য বেশ কয়েকটি সংস্থাকে একাধিক ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এর সঙ্গে মন্ত্রী এবং তাঁদের সহযোগীরা জড়িত ছিলেন।
মাদার ডেয়ারি নিয়ে অভিযোগ
দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, "আমি হরিণঘাটায় করুণ অবস্থা দেখেছি। মাদার ডেয়ারি, যা আগে প্রতিদিন ছয় লক্ষ লিটার দুধ উৎপাদন করত, এখন মাত্র ৩০,০০০ লিটার উৎপাদন করে। আর সেটাও লুঠ করার জন্য 'বাংলা ডেয়ারি' তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র চাকরি বিক্রি, ঘুষ আর লুঠপাটের জন্য একটা সংস্থাকে দুই বা তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এটা কারা করেছে? মন্ত্রীরা এবং তাঁদের সহযোগীরা করেছেন।"

