কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের উত্তরপাড়া কেন্দ্রের প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শাহ শুধু ভোটের সময়েই বাংলায় আসেন, এখানকার মানুষের সংস্কৃতি বা উৎসব নিয়ে তাঁর কোনও আগ্রহ নেই।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের সময় ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কথা অমিত শাহের মনে পড়ে না। এখানকার সংস্কৃতি বা উৎসব-অনুষ্ঠানে তাঁর দেখা মেলে না। শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মানুষের সঙ্গে মেশার বদলে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হল ভোট আদায় করা।
'ভোটের রাজনীতি' নিয়ে তৃণমূলের তোপ
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে শীর্ষণ্য বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে। তিনি জানান, তাঁদের দল রাজ্যে শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির বিকাশের উপর জোর দিয়েছে। তিনি যোগ করেন, "তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে আমরা যখন জনসভায় যাচ্ছি, তখন শুধু সংস্কৃতির কথা বলছি না, রাজ্যে যে উন্নয়ন হয়েছে, কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে শিল্প, MSME ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির আরও বিকাশ ঘটবে, সেই কথাও বলছি...।"
উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে অমিত শাহের সফরকে নিশানা করে তৃণমূল প্রার্থী প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের বড় উৎসব বা অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায় না কেন? তিনি বলেন, "আমার কেন্দ্রে আজ অমিত শাহ আসছেন। তাঁর কাছে আমার প্রশ্ন, আমরা যখন সাতদিন ধরে দুর্গাপুজো পালন করি, তখন তিনি বাংলায় আসেননি কেন? পয়লা বৈশাখে কেন আসেননি? ঈদের সময় কোথায় ছিলেন? আমার কেন্দ্রের শকুন্তলা মায়ের পুজোর সময়ও তো তাঁকে দেখিনি! এর মানে, বাংলার মানুষকে ওঁর শুধু ভোটের জন্যই দরকার। এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখ, উৎসব-অনুষ্ঠানের সঙ্গে জুড়তে তিনি চান না...।"
নির্বাচনে বিপুল ভোটের হার
এদিকে, বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রথম দফায় ভোটের হার ছিল ৯১.৯১ শতাংশ, যা নির্বাচনে মানুষের বিপুল অংশগ্রহণের প্রমাণ।
পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৯৪.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরপরই রয়েছে কোচবিহার (৯৪.৫৪%), বীরভূম (৯৩.৭০%), জলপাইগুড়ি (৯৩.২৩%) এবং মুর্শিদাবাদ (৯২.৯৩%)। এই পরিসংখ্যানগুলি রাজ্যের প্রায় সব বড় জেলাতেই মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ তুলে ধরেছে। তুলনায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের হার ছিল ৮৫.২ শতাংশ। বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ২৯ মে এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে।


