বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই কাজ করা হয়েছে বলে পাল্টা তোপ দাগলেন শোভন। কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের হুঁশিয়ারি, তার উপরে কোনও আক্রমণ হলে তাঁর দায় নিতে হবে রাজ্য সরকারকে। 

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভায় তিনি যখন কাউন্সিলর ছিলেন, সেই সময় থেকেই তিনি সরকারি নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর জীবন সংশয় থাকার কারণেই গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি নিরাপত্তা পেতেন বলে দাবি সদ্য বিজেপি-তে যোগ দেওয়া শোভনের। পরবর্তী সময়ে তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে জেড ক্যাটাগরির করা হয়। 

আরও পড়ুন- 'পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম', নাম না করে মমতাকে বিঁধলেন শোভন

আরও পড়ুন- মমতা ঘরে ফিরতে বলেছিলেন শোভনকে! বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নিয়ে এবার সরব রত্না

গত ১৪ অগাস্ট বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিল্লিতে বিজেপি-তে যোগ দেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তার পরেই আচমকা প্রত্যাহার করা হয় তাঁর সরকারি নিরাপত্তা। তৃণমূল ছাড়লেও শোভন এখনও বিধায়ক এবং কাউন্সিলর রয়েছেন। শোভন জানিয়েছেন, শনিবার রাতে তিনি জানতে পারেন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এ বিষয়ে সরকারিভাবে তাঁকে জানানো হয়নি। নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের থেকেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এর পরেই পুলিশ কমিশনারকে ই মেল করে শোভন জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল। 

নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা নিয়ে অবশ্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছেন ক্ষুব্ধ শোভন। তিনি বলেন, 'গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই আমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হত। হঠাৎ অবস্থার কী এমন পরিবর্তন হল আমি জানি না। গতকাল রাতে আমাকে না জানিয়েই কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমার আপত্তির কিছু নেই। একটা রাজনৈতিক দল নির্বাচিত হয়। তবে প্রশাসনের সঙ্গে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই আমার নিরাপত্তা তোলা হয়েছে। যখন যেটা মনে হয় মহম্মদ বিন তুঘলকের মতো দেওয়া হয়, আবার তুলে নেওয়া হয়।  আমার উপরে কোনও আঘাত হলে তার দায় রাজ্য সরকারকে নিতে হবে।'

কলকাতা পুলিশের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, পর্যালোচনার পরেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানো হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাবেন। ইতিমধ্যেই সেই সংক্রান্ত চিঠিও কলকাতায় চলে এসেছে।