Basirhat: বসিরহাটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অবৈধ সম্পর্কের জেরে এক মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে একসঙ্গে থাকার পর এবার মর্মান্তিক পরিণতি। ভাগ্নেকে খুন করে মামীর আত্মহত্যা। রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় মহিলার দেহ, অন্যদিকে ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় যুবকের মৃতদেহ।
Basirhat: বসিরহাটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অবৈধ সম্পর্কের জেরে এক মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে একসঙ্গে থাকার পর এবার মর্মান্তিক পরিণতি। বসিরহাটে ভাগ্নেকে খুন করে মামী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে একদিকে রেললাইন থেকে উদ্ধার হয় মহিলার দেহ, অন্যদিকে ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় যুবকের মৃতদেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের নাম দেবাশীষ মণ্ডল (৩২) এবং মৃত মহিলার নাম রুনু মণ্ডল (৩৩)। দু'জনেরই বাপের বাড়ি বসিরহাটের ট্যাটরা এলাকায়। পুলিশ দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

কীভাবে পরিচয়
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ বছর আগে রুনু মণ্ডলের বিয়ে হয় বনগাঁয়। এরপর দীর্ঘদিন পর বাপের বাড়িতে আসা-যাওয়ার সময় পূর্ব পরিচিত দেবাশীষ মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর পুনরায় যোগাযোগ হয়। সেই পরিচয় থেকেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি দুই পরিবারের একাংশের।
বাড়ি থেকে পালিয়ে
এই সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারেই অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, প্রায় এক মাস আগে দেবাশীষ ও রুনু বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে দুই পরিবারই তাঁদের খোঁজাখুঁজি করলেও কোনও সন্ধান মেলেনি। দেবাশীষের পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে তিনি তাঁর বাবাকে ফোন করে জানান, তিনি অত্যন্ত অশান্তিতে রয়েছেন এবং বাড়ি ফিরতে চান। এরপরই শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নেয় বলে অভিযোগ।
কী ঘটে
মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে রুনু মণ্ডল ফোন করে দেবাশীষের বাবাকে জানান, তিনি দেবাশীষকে খুন করেছেন এবং এরপর নিজেও আত্মহত্যা করবেন। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। শনিবার সকালে বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন অনন্তপুর এলাকার রেললাইন থেকে রুনু মণ্ডলের দেহ উদ্ধার হয়। অন্যদিকে, বসিরহাটের ময়লাকোলা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দেবাশীষ মণ্ডলের মৃতদেহ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্ধ দরজা ভেঙে যুবকের দেহ উদ্ধার করে।
দুটি দেহ উদ্ধার
দুটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি খুন ও আত্মহত্যা কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, রুনু মণ্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেবাশীষের পরিবারের অভিযোগ, রুনুই প্রথমে দেবাশীষকে খুন করেন এবং পরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর সময় এবং কীভাবে এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


