সিঙ্গুরে তৈরি হবে অ্যাগ্রো ইনডাস্ট্রিয়াল পার্ক। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিঙ্গুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জন্য মহাকরণের  দরজা খুলে গিয়েছিল। সিঙ্গুর আন্দোলনে তাঁর সাফল্য অবসান ঘটিয়ে ছিল৩৪ বছরের বাম জমানার। চিরতরে বিলীন হয়েছিল টাকাদের গাড়ি কারখানা তৈরির স্বপ্ন। পরবর্তীকালে আইন আদালতের মাধ্যমে সিঙ্গুরের জমি ফিরে পেয়েছিলেন ইচ্ছুক অনিচ্ছুক -সকল  কৃষক। কিন্তু তখন থেকেই একটা প্রশ্ন উঠে গিয়েছিলে শিল্পের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল তাতে কী আবারও চাষ করা যাবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের একাংশ সেই সময় দাবি করেছিলেন সিঙ্গুরের জমিতে আর ছাষ করা যাবে না। জমি ফিরে পেলেও বর্তমানে সিঙ্গুরের অধিকাংশ জমিই চাষের অযোগ্য রয়ে গেছে। আর সেই কারণে ক্ষমতায় আসার দীর্ঘ দিন পরেও সিঙ্গুরের জন্য একাধিক প্রকল্প চালিয়ে যেতে হচ্ছে রাজ্য সরকার।  এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে এবার  শিল্পের ওপরেই আস্থা রাখতে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  কিন্তু মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর কী আরও একবার রাজ্যরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়বে সিঙ্গুর? সেই প্রশ্নটাই উঠছে ঘুরে ফিরে। 


এক সময় গোটা সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকলেও বর্তমানে সেখানে শক্তিশালী হচ্ছে বিজেপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। আর সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর আবারও রাজ্যরাজনীতিতে জোরালো হচ্ছে সিঙ্গুরের ভূমিকা। শিল্পের দাবি জানিয়ে গত বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত  একটি মিছিল করেছিল। মিছিলে সাড়া পড়লেও ভোটবাক্সে তেমন লাভ হয়নি। তারপর থেকে রাজ্যরাজনীতিতে আর তেমন করে ওঠেনি সিঙ্গুর প্রসঙ্গ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে সিঙ্গুর। 

২৯ দিন পরেও একই অবস্থান অন্নদাতাদের, কৃষি আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কৃষক সংগঠন .

নবান্ন থেকে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা, অমর্ত্য সেন ইস্যুতে সমালোচনা মমতার ...

 এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির কথা ঘোষণা করার পরই রাজ্যরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সিঙ্গুর।  এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিঙ্গুরে কৃষি শিল্পের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।  আর সেকারণেই সেখানে অ্যাগ্রো পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিনও তিনি বলেন জোর করে কোনও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। আগেও যেমন তিনি জোর করে জমি অধিগ্রহণের বিপক্ষে ছিলেন বর্তমানে তিনি তার বিপক্ষে রয়েছেন। এই অ্যাগ্রো পার্ক থেকে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেো আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় দীর্ঘ দিন পরে সিঙ্গুর আবারও শিল্পের স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে বলা যেতেই পারে।