মৌলিককান্তি মণ্ডল, নদিয়া-আলোর উৎসবে যখন গোটা গ্রাম মাতোয়ারা। ঠিক তখনই মর্মান্তিক খবরটা এল সদূর কাশ্মীর থেকে। পাক সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন বাংলার জওয়ানের। গ্রামের তরতাজা ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। আলোর উৎসবে আজ অনেক বাড়ির বারান্দায় জ্বলল না চোদ্দ প্রদীপ। শুক্রবার বিকেলে প্রত্যন্ত গ্রামে খবরটা পৌঁছতেই শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম।

সালটা ২০১৬। সেই দিন গ্রামে সুখবর পেয়েছিলেন নদিয়ার তেহট্টের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা। প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে সুবোধ ঘোষ ভারতীয় সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। গর্বে বুক ফুলে গিয়েছিল রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু, শুক্রবার বিকেলে মিলল মর্মান্তিক খবর। পরিবারের লোকেরা জানতে পারলেন কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাক সেনার গুলিতে শহিদ হয়েছেন নদিয়ার সুবোধ ঘোষ। বছর চব্বিশের তরতাজা ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম।

আরও পড়ুন-দেশালাই কাঠিতেই কিস্তিমাত, কালীমাতার ভক্তিতে ১ ইঞ্চির মূর্তি গড়লেন শিল্পী

ছেলে চাকরি পাওয়ার পর টিনের ঘর পাকা করেছিলেন বাবা গৌরাঙ্গ ঘোষ। একমাত্র সন্তানকে ভারতীয় সেনায় পাঠিয়ে গর্ব অনুভব করতেন তিনি। পাকা বাড়ি নির্মাণ হলেও তা ছিল অসম্পূর্ণ। কালীপুজোর আগে আলোর উৎসবে যেন সব স্বপ্ন চুরমার হয়েগেল বাবার। গত নভেম্বর মাসে সুবোধের সঙ্গে অনিন্দিতার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের তিন মাসের এক কন্য়া সন্তানও আছে। ডিসেম্বর মাসে বাড়ি ফিরে মেয়ের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান করার জন্য পরিবারকে কথা দিয়েছিল সুবোধ। কিন্তু তার আর ফেরা হল না। সুবোধ এখন না ফেরার দেশে। আলোর উৎসবের সময় শোকের আবহে শনিবার নিস্তব্ধ গোটা গ্রাম। 

আরও পড়ুন-তৃণমূল নেতার স্মরণসভায় উর্দি পরে হাজির থানার ওসি, সংবর্ধনা নেওয়ায় শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক

বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর কাশ্মীরের বারমুলা সেক্টরে পাক সেনার সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়েছিল ভারতীয় সেনার। পালচা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাও। সেখানে গানার ছিলেন নদিয়ার সুবোধ ঘোষ। পাক সেনার গুলির লড়াইয়ে আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে প্রাণ হারায় সুবোধ। সুবোধের মা বাসন্তী ঘোষ জানান, বিকেলে কাশ্মীর থেকে বাড়িতে ফোন আসে। জানানো হয়, পাক সেনার গুলিতে আমার ছেলে মারা গিয়েছে। স্বামীর মৃত্যুতে তিন মাসের কন্য়া সন্তানকে নিয়ে শোকস্তব্ধ স্ত্রী অনিন্দিতা।