অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে হামলার অভিযোগে তৃণমূলের রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, প্রমাণ লোপাট করতেই অভিষেক নিজে এই চুরির ঘটনা সাজিয়েছেন এবং নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানানোর পরেই, বৃহস্পতিবার রাজ্যের শাসক দলকে পাল্টা তোপ দেগেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা ও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্য়ায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেন।

সুকান্ত মজুমদার

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে বলেন, একটা সময় বিজেপি রাজ্যপালের কাছে গেলেই তৃণমূল তাদের নিয়ে মজা করত। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমরা যখন বিরোধী ছিলাম, তখন তৃণমূলের হাতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতাম। আমরা তখন রাজ্যপালের কাছে যেতাম, আর আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করা হতো। সেই সময় রাজ্যপালের পদ বা রাজ্যপালকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো। আর আজ দেখুন, সেই তৃণমূল কংগ্রেসই রাজ্যপালের কাছে যাচ্ছে।" রাজ্যে সম্প্রতি নথি চুরি এবং হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে, যার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।

রাহুল সিনহা

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা। তাঁর দাবি, প্রমাণ লোপাট করার জন্যই এই চুরির নাটক সাজানো হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার আর্জি আসলে নজর ঘোরানোর চেষ্টা। রাহুল সিনহা অভিযোগ করেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ফাইল ও কাগজপত্র চুরি করিয়েছেন প্রমাণ নষ্ট করার জন্য। এটা তাঁর নির্দেশেই হয়েছে। পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার তদন্ত পুলিশ করবে... তখন দেখবেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রমাণ লোপাটের জন্য এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন।"

লকেট চট্টোপাধ্যায়

বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনায় বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। লকেট বলেন, "আমি বিশ্বাস করি না যে এই ঘটনার সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও কর্মী জড়িত। তৃণমূল দলটা টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। ওদের লোকেরাই ওদের আক্রমণ করছে। তৃণমূল শেষ হয়ে গিয়েছে, এখন শুধু সহানুভূতি কুড়ানোর চেষ্টা করছে।"

তৃণমূলের আর্জি

এর আগে বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবিকে চিঠি দিয়ে দ্রুত সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে হামলার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং পুলিশের "পরিকল্পিত অপব্যবহার" নিয়ে আলোচনার জন্যই এই আবেদন বলে জানানো হয়। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকালে চিঠিগুলি পাঠানো হয়েছে। একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এবং কলকাতায় রাজ্যপালের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করতে চায়। ডেরেক বলেন, "এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছি। তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল বাংলার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে দেখা করতে চায়।"

তৃণমূল নেতার অভিযোগ, গত চার মাস ধরে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়েছে। দলের কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে এবং পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আজ সকালে যা হয়েছে, তা প্রকাশ্য অরাজকতা। ভোর ৪:৩০-এর ভিডিও ফুটেজ দেখুন। গত ৪ মাস ধরে পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। রাজ্যজুড়ে পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করছে। পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ কোনও নিয়ম মানছে না এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করছে। ডেরেক অভিযোগ করেন, "পুলিশ কোনও নিয়ম মানছে না। পুলিশ খোলাখুলিভাবে... বিজেপির ক্যাডারের মতো কাজ করছে। এখানে চূড়ান্ত অরাজকতা চলছে।"

অভিষেকের অভিযোগ

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, বৃহস্পতিবার ভোরে বিজেপির কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর অফিসে ঢুকে পড়ে। তারা অফিসের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে, কর্মীদের মারধর করে এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট করে দেয়। অভিষেকের অভিযোগ, দলের কর্মী ও আইনজীবীরা বারবার ফোন এবং ইমেল করা সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশ প্রায় দু'ঘণ্টা কোনও সাড়া দেয়নি। এই ঘটনাকে "আইনের শাসনের প্রকাশ্য অবমাননা" বলে উল্লেখ করে তিনি দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।