তিরুপতি মন্দিরের ধাঁচে এবার তারাপীঠেও চালু হতে চলেছে ডিজিটাল কুপন ব্যবস্থা। আগামী রবিবার থেকেই ভিআইপি লাইনে পুজো দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকার কাগুজে কুপন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তার বদলে নির্দিষ্ট একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বুক করতে পারবেন পুণ্যার্থীরা।
তিরুপতি মন্দিরের ধাঁচে এবার তারাপীঠেও চালু হতে চলেছে ডিজিটাল কুপন ব্যবস্থা। আগামী রবিবার থেকেই ভিআইপি লাইনে পুজো দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকার কাগুজে কুপন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তার বদলে নির্দিষ্ট একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বুক করতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর এবং মন্দির কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ডিজিটাল কুপন কাটতে প্রথমে মোবাইলে নির্দিষ্ট অ্যাপটি ডাউনলোড করে নাম ও মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর মোবাইলে আসা ওটিপি দিয়ে লগ-ইন করতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে ৫০০ টাকা অনলাইনে পেমেন্ট করলেই মোবাইলে চলে আসবে ডিজিটাল টিকিট। অর্থাৎ হোটেল, ট্রেন বা বাসে বসেই পুণ্যার্থীরা ভিআইপি দর্শনের টিকিট কেটে নিতে পারবেন।
ডিজিটাল টিকিট ভেরিফাই করার পর পুণ্যার্থীদের দ্রুত দর্শনের সুযোগ
মন্দিরের ভিআইপি লাইনে থাকা প্রশাসন ও মন্দির কমিটির কর্মীরা মোবাইলে থাকা ডিজিটাল টিকিট ভেরিফাই করার পর পুণ্যার্থীদের দ্রুত দর্শনের সুযোগ করে দেবেন। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক জানান, প্রথম পর্যায়ে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হলেও পরবর্তীতে অ্যাপে ভিড়ের আপডেট দেখে ‘টাইম স্লট’ বুক করার সুবিধাও যুক্ত করা হবে। এর ফলে পুণ্যার্থীদের মন্দিরে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। বিধায়ক ধ্রুব সাহার বক্তব্য, পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের সময় বাঁচানো এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু
তবে মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যাকে সামনে রেখে আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করার পর পরবর্তীতে এই ব্যবস্থা স্থায়ী করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৫০০ টাকার কুপনের অর্থ বণ্টন নিয়ে বিতর্ক
ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেও ৫০০ টাকার কুপনের অর্থ বণ্টন নিয়ে অবশ্য বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে। মন্দিরের পুরনো নিয়ম অনুযায়ী, ৫০০ টাকার কুপনের মধ্যে মাত্র ১০০ টাকা পায় মন্দির কমিটি। বাকি ৪০০ টাকা ভাগ হয় পালাদার সেবাইত ও পান্ডাদের মধ্যে। ডিজিটাল কুপন চালু হলেও অর্থ বণ্টনের এই কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। অথচ রাজ্যে পালাবদলের পর ৫০০ টাকার পুরো অর্থই মন্দির কমিটির তহবিলে জমা পড়বে বলে জানিয়েছিলেন নিখিলবাবু। প্রশাসনিক কর্তাদের বক্তব্য, অর্থ বণ্টনের বিষয়টি সেবাইতদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাই আপাতত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে না প্রশাসন।
