পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে না? জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে এবার ধর্নায় বসলেন দুই সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং-সহ বিজেপির স্থানীয় নেতারা। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও উঠল। ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়ায় অশান্তির ঘটনায় চড়ছে রাজনীতির পারদ।

আরও পড়ুন: অশান্ত ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়া, গুজব রুখতে হুগলিতে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। সেদিন সন্ধেবেলায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল হয় ভদ্রেশ্বর থানার তেলিনিপাড়ায়। মঙ্গলবারও দফায় দফায় চলেছে বোমাবাজি, গুলি। ঘটেছে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের মতো ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, 'যারা লকডাউন ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে দাঙ্গা করছে, সে যে সম্প্রদায়ের হোক, পুলিশকে বলেছি কঠোর ব্যবস্থা নিতে। কাউকে ছাড়া হবে না। প্রয়োজনে মহামারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বরদাস্ত করা হবে না।' পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশাল পুলিশ বাহিনী, এমনকী কমব্যাট ফোর্সও মোতায়েন করেছে চন্দননগর কমিশানারেট। তাহলে তেলিনিপাড়ায় শান্তি ফেরানো যাচ্ছে না কেন? পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির স্থানীয় নেতারা। 

বুধবার সকালে হুগলির জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর দপ্তরে যান বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং। কিন্তু অনুমতি না পেয়ে চুঁচুড়ায় জেলাশাসকের দপ্তরের সামনেই ধর্নায় বসে পড়েন দু'জনই।  জানা গিয়েছে, ঘণ্টা দেড়েক পর খবর আসে, জেলাশাসক তাঁর অফিসে নেই। অন্য কোনও আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি লকেট ও অর্জুন। শেষপর্যন্ত যখন চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দেখা করতে ভদ্রেশ্বর থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন, তখন মাঝ-পথ থেকে দুই সাংসদকে পুলিশ ফেরত পাঠিয়ে দেয়।  

আরও পড়ুন: লকডাউনে অব্যাহত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ধারালো অস্ত্রে কোপে নিহত তৃণমূল কর্মী

হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'পুলিশ কমিশনার নাকি তেলিনিপাড়ায় ক্যাম্প করে বসে আছেন। কেন পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে না? যাঁরাই করুক, যে দলই করুক, কেন তিনি কন্ট্রোল করতে পারছেন না? তার মানে তিনি উপযুক্ত নন, কোথাও প্রশাসনের ইন্ধন আছে। এখানকার পুলিশের বড়কর্তারা যদি কিছু করতে না পারেন, তাহলে তাঁরা পদত্যাগ করুন।' বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব। উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং-কে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন তিনি।