এবার ভাতা পাবেন সাংবাদিকরাও! মাসিক ৫ হাজার টাকা করে সুবিধা মিলবে তাদের..বিরাট ঘোষণা, কী করে আবেদন করবেন?

ভোটের আবহে সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা করল বিজেপি। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানালেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সমস্ত যোগ্য সাংবাদিককে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

তিনি স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সংবাদমাধ্যমের বিভাজন না দেখে সকল সাংবাদিককেই এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তাঁর কথায়,

“আমরা-ওরা নয়, সব সাংবাদিকই এই সুবিধা পাবেন।”

গত এক দশকে সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘গোদি মিডিয়া’ থেকে ‘চটি মিডিয়া’— বিভিন্ন রাজনৈতিক তকমায় সাংবাদিকদের বিভাজনের অভিযোগও বারবার উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই সুযোগ-সুবিধা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বিজেপি সেই সংস্কৃতি বদলে সকল সাংবাদিকের জন্য সমান সুযোগ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়।

বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, রাজ্যের বহু সাংবাদিক প্রতিকূল পরিবেশে এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। বিশেষ করে জেলা ও মফস্বলের সাংবাদিকদের অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন।

তাই বিজেপি ক্ষমতায় এলে কোনও রকম পক্ষপাত ছাড়াই সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। যদিও সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ এই প্রথম নয়। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সাংবাদিকদের ট্রেনভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। সেই সুবিধা তাঁদের পরিবারের সদস্যেরাও পেতেন।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাংবাদিকদের জন্য পেনশন বা বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে। হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, অসম ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে ইতিমধ্যেই এমন প্রকল্প চালু রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা শুধুমাত্র কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নয়, এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশলও। যেমন রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ প্রকল্পের কথা বলেছে, তেমনই এবার সাংবাদিকদের ভাতার ঘোষণা করে বুদ্ধিজীবী ও সচেতন মহলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল তৃণমূলের সরকার চালিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সরকার গড়তে পারেননি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি যে নিজেদের ‘সর্বজনের সরকার’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এই ঘোষণা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় বড় জায়গা করে নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।