কৌশিক সেন, রায়গঞ্জ:  'নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে।' হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুতে চড়ছে রাজনীতির পারদ। ঘটনার কিনারা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুর জেলায় বারো ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিল বিজেপি। এদিন ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী-সহ দলের তিনজন সাংসদ। আত্মহত্যার তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন সকলেই। 

আরও পড়ুন: মৃত বিজেপি বিধায়কের পকেটে মিলল 'সুইসাইড নোট', সিআইডি তদন্তের নির্দেশ সরকারের

স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান থেকে বিধায়ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে লড়াকু সিপিএম নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ রায়। গত বিধানসভা ভোটে বাম প্রার্থী হিসেবে হেমতাবাদ থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে আচমকাই সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন দেবেন্দ্রনাথ। বছর ঘুরতে না ঘুরতে তাঁর মৃত্যুতে ঘনাচ্ছে রহস্য। 

সোমবার সকালে বাড়ি কাছে একটি বন্ধ দোকানে থেকে হেমতাবাদের বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, আর্থিক কারণ, এমনকী, দু'জন ব্যক্তির নামও সুইসাইড নোটে উল্লেখ করে গিয়েছেন মৃত বিধায়ক। তদন্তের স্বার্থে সেই নামগুলি প্রকাশ করা না হলেও, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশ সুপারের আরও বক্তব্য, সুইসাইড নোটে হাতের লেখাটি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের বলে শনাক্ত করেছেন পরিবারের লোকেরা।  ঘটনার সিআইডি তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে সরকার। 

আরও পড়ুন: মৃত বিজেপি বিধায়কের পকেটে মিলল 'সুইসাইড নোট', সিআইডি তদন্তের নির্দেশ সরকারের

এদিকে বিধায়ক মৃত্যুতে রাজ্য সরকারের চাপ বাড়াচ্ছে বিজেপিও। খবর পেয়ে সোমবার হেমতাবাদে পৌঁছন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মুও। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তাঁরা, কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃত বিধায়কের পরিবারের লোকেদের সঙ্গেও। গেরুয়াশিবিরের সাংসদের বক্তব্য, পুলিশমন্ত্রী হয়েও রাজ্যের বিধায়কদের রক্ষা করতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। আত্মহত্যা ও সুইসাইড নোটের কথা বলে আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছে পুলিশ। নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে অবিলম্বের পদত্যাগ করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী এবং ঘটনার সিবিআই তদন্ত করাতে হবে।