বিজেপির বিহার সভাপতি সঞ্জয় সারোগি পশ্চিমবঙ্গে দলের জয় নিয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রথম দফায় বিপুল ভোট প্রমাণ করে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার দলের বিহার সভাপতি সঞ্জয় সারোগি দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কতটা তীব্র।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে সঞ্জয় সারোগি বলেন, "বাংলার মানুষ মনস্থির করে ফেলেছে। প্রথম দফার নির্বাচনে যেভাবে রেকর্ড ভোট পড়েছে, তাতে বুথে বুথে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ স্পষ্ট দেখা গেছে। বাংলার মানুষ তৃণমূলের উপর বিরক্ত এবং পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে। আগামী দিনে বিজেপি সেখানে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে।"

শুধু সারোগিই নন, বিজেপির আরেক নেতা রামকৃপাল যাদবও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং তারা আর তৃণমূলকে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, "তৃণমূল তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। মানুষ যদি তৃণমূলকেই বিশ্বাস না করে, তাহলে দিদিকে কীভাবে বিশ্বাস করবে? মানুষ ঠিক করে ফেলেছে যে তারা পরিবর্তন চায়... আমি বিশ্বাস করি, বিজেপির নেতৃত্বে সেখানে নতুন সরকার তৈরি হবে।"

'বহিরাগত' তত্ত্বে পাল্টা জবাব তৃণমূলের

বিজেপির এই দাবির জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তন্ময় ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ৪ মে সকাল ১১টার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতো কোনও 'বহিরাগত'-কেই বাংলার মাটিতে দেখা যাবে না। তিনি বলেন, "৪ মে সকাল ১১টার মধ্যে আপনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মতো কোনও বহিরাগতকে বাংলার মাটিতে খুঁজে পাবেন না... আমরা প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি যে তৃণমূল অন্তত ২৩০ থেকে ২৫০টি আসন নিয়ে সরকার গড়বে। মানুষের আশীর্বাদ তৃণমূল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছে।"

প্রথম দফায় বিপুল ভোট

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের প্রথম দফার ভোটে ৯২.৩৫ শতাংশের মতো বিপুল ভোট পড়েছিল। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে এই বিপুল ভোটদান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির সঙ্গেই ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।