BJP Vs TMC: বিজেপি সরকার গঠনের পর গত ২০ দিনে একাধিক তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন বিভিন্ন অভিযোগে। পোস্ট-পোল হিংসা, তোলাবাজি, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগে তদন্ত জোরদার হয়েছে।

গত ৯ মে শপথ নিয়েছে রাজ্যের বিজেপির সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর কেটেছে মাত্র ২০ দিন। এরই মধ্যে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মন্ত্রী পুলিশের জালে পড়তে শুরু করেছে। তালিকাটা ক্রমশই লম্বা হচ্ছে। দেখুন গ্রেফতার হওয়া রাঘব বোয়ালদের লম্বা তালিকা।
প্রথম নাম সুজিত বসু
গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মন্ত্রীদের তালিকায় প্রথম নামই হল সুজিত বসু। রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী। দমদম পুরসভায় চাকরি দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও তিনিও পাল্টা ইডির বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকেছেন।
দিলীপ মণ্ডল
পৈলানে বিসাল অট্টালিকা। বাড়ি সংলগ্ন সুইমিং পুল। হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ। সেই দিলীপ মণ্ডলের হুমকি মূলক একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই গত ১৪ মে সকালে তার বাড়িতে হানাদেয় পুলিশ। কিন্তু তিনি বাড়ি ছিলেন না। শেষপর্যন্ত পরীর ব্লু লিলি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ।
শান্তনু সিং
সোনাপাপ্পুর ঘনিষ্টদের অন্যতম শান্তনু সিং। একাধিকবার হাজিরা এড়িয়ে গিয়ছিল। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদল হতেই পুলিশের জালে পড়ে গ্রেফতার. একটা সময় কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন শান্তনু। তৃণমূল ঘনিষ্ট হিসেবেই তাঁর পরিচিতি।
বাদুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান
তৃণমূল কংগ্রেস জনপ্রিতিনিধি বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও গ্রেফতার। তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিতি ছিল। কিন্তু পালা বদল হতেই গা ঢাকা দেন তিনি। যদিও তাঁকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তৃণমূলের কার্যালয় এবং একটি বাগানবাড়ি থেকে প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানকে একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। সেই সময় দীপঙ্করের হেফাজতে থাকা ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
সন্দীপ পোল্লে
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ঠাকুরপুকুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ পোল্লে। কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ছাত্ররাজনীতি থেকে উত্থান। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য ছিলেন। একটা সময় বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ দিতেন সুদীপ।
বিধাননগর পুরসভার ৪ কাউন্সিলর
তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর পুর নিগমের মোট চার জন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখাল। ইডির হাতে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বিধাননগরের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধেও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি ঘটনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে। অভিযোগ ছিল মুদির দোকানে সংস্কারের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেন অভিযুক্ত পুরপ্রতিনিধি এবং তাঁর দলবল। তৃণমূল জমানায় সমরেশ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি বাগুইআটির এক প্রোমোটারের থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন। এই ঘটনার সূত্রে অবশেষে শুক্রবার বাগুইআটি থানার পুলিশের জালে ধরা পড়েন সমরেশ।
স্বপন বর্মন
গত বছর বিরোধী নেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর কোচবিহার সফর করেছিলেন। সেই সময় তাঁর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের যুব সভাপতি স্বপন বর্মনকে। উদ্ধার করা হয় ১ রাউন্ড গুলিও।
শাহজাহান শেখের ঘনিষ্ঠ
সন্দেশখালি-কাণ্ডে অভিযুক্ত শাহজাহান শেখের অনুগামী বলে পরিচিত হাটগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল কাদের মোল্লা। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর ওপর হামলার অভিয়োগ রয়েছে। তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
সূর্য দে
এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ডানকুনির কাউন্সিলর সূর্য দেকে।


