দিন কয়েক আগে মহিলার মোর্চার দুই নেত্রীর ধস্তধস্তির ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর এবার  'বিজেপি সাফাই অভিযান' নামছেন দলের প্রাক্তন কর্মীদের একাংশ! খুব তাড়াতাড়ি বিক্ষুদ্ধ বিজেপি নেতা-কর্মীরা জনসভাও করবেন বলে জানা গিয়েছে। পুরভোটের আগে পুরুলিয়ায় চাপে গেরুয়াশিবির।

জেলায় যে গেরুয়াশিবিরের শক্তি বাড়ছে, তা মালুম হয়েছিল পঞ্চায়েত ভোটের সময়। গত লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া আসনটি তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। দুই লক্ষেরও বেশি ভোটে জেতেন পদ্মশিবিরের প্রার্থী জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো। কিন্তু ঘটনা হল, পুরভোটের আগে বেকায়দায় পড়েছে বিজেপি। বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়েছে গেরুয়াশিবিরের অন্দরের। জানা গিয়েছে,লোকসভা ভোটের পর থেকে দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন কর্মীদের একাংশ। সাসপেন্ড হয়েছেন পুরুলিয়া উত্তর মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি নির্মল কেশরী, সাধারণ সম্পাদক নগেন ওঝা, ওবিসি মোর্চার সভাপতি বাবাই সেন-সহ বেশ কয়েকজন। এই বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীরাই এখন মঞ্চ গড়ে বিজেপি সাফাই অভিযানে নামার তোড়জোড় করছেন। 

আরও পড়ুন: ওভারেটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনা, পুরুলিয়ায় মৃত তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি

পুরুলিয়া শহরের উত্তর মণ্ডলের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি নির্মল কেশরীর বক্তব্য, 'মোদীজিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপিতে এসেছিলাম। কিন্তু দলের পুরুলিয়ার নেতারা আর সৎ ও একনিষ্ঠ কর্মী চাইছেন না। চাটুকার ও চামচাদেরই কদর বেশি। তাই বিজেপি সাফাই অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' তাহলে কি দলও ছাড়ছেন? নির্মল কেশরীর জবাব, 'দল ছাড়ব কিনা,তা জানিনা।' জেলার দলে বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীরা যে আর ক্ষোভ আর চেপে রাখবেন না, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন  বিজেপি-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নগেন ওঝাও। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে পুরুলিয়াকেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি।

কী বলছে বিজেপি-র পুরুলিয়া জেলা নেতৃত্ব? দলের জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর বক্তব্য, যাঁরা বিজেপি সাফাই অভিযানের কথা বলছেন, তাঁরা কোনদিনই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না। বরং তলে তলে তৃণমূলে সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতেন।  তাই তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।