'করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে চান, তাহলে গোমূত্র পান করুন।' এ রাজ্যের মানুষকে 'সচেতন' করতে এবার পথে নামল বিজেপি। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে 'গরুদের পুজো' করলেন গেরুয়াশিবিরের নেতা-কর্মীরা। পালিত হল গোমূত্র পান কর্মসূচিও!

আরও পড়ুন: দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১২৯, তিন রাজ্যের পর এবার বাংলায় বন্ধ সিনেমাহল

কী ব্যাপার? এখনও পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত হননি, তবে করোনা সন্দেহে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে রোগীদের। বাদ যাচ্ছেন না চিকিৎসকরাও। সংক্রমণ ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। স্কুল-কলেজ বন্ধ, স্থগিত হয়ে গিয়েছে বিধানসভা বাজেট অধিবেশনও। করোনা থেকে বাঁচতে সকলেই মাস্ক ব্য়বহার করার ও বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, এই মারণ ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টাও চলছে। বস্তত, আমেরিকায় একদল বিজ্ঞানী মানুষের উপর পরীক্ষামূলকভাবে করোনার প্রতিষেধক প্রয়োগও করেছেন বলে খবর।  এই যখন পরিস্থিতি, তখন গরু নিয়ে মেতে উঠেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, গোমূত্র যে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধ সক্ষম, তা নাকি প্রমাণিত সত্য! করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সকলেই গোমূত্র পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১২ দিনেও ছাড়েনি জ্বর,পুণে থেকে বর্ধমানে ফিরতেই আইসোলেশনে রাজমিস্ত্রি

মঙ্গলবার সকালে রায়গঞ্জ শহরের একটি গোয়ালায় গিয়ে রীতিমতো 'গরুদের পুজো' পুজো করলেন বিজেপি নেতা-কর্মীদের। নিজেরা তো খেলেনই, গোমূত্র বিতরণ করা হল স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। দলের মহিলা মোর্চার রায়গঞ্জ টাউন সভাপতি অর্পিতা মিত্রের বক্তব্য়, 'যেকোনও পুজো-পাবর্ণের গোমূত্রের প্রয়োজন হয়। অসুখ-বিসুখে পড়লে গোমূত্র পানেরও  রেওয়াজ আছে। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে ওষুধ তো খেতেই হবে। তবে গোমূত্র খেলেও উপকার হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।' এদিকে গোমূত্রের সঙ্গে করোনা ভাইরাসের কোনও সম্পর্ক নেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বরং গোমূত্র পান বিপদ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গোমূত্রকে কার্যত ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার নিদান দিয়েছেন হিন্দু মহাসভার কর্মীরাও। শনিবার দিল্লিতে 'গোমূত্র পার্টি'র আয়োজন করেছিলেন সংগঠনের প্রধান চক্রপানি মহারাজও। সোমবার আবার হুগলির ডানকুনিতে গোমূত্র দোকান খুলে বসেন এক ব্যক্তি। তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোমূত্র পান কর্মসূচি পালিত হয়েছে খাস কলকাতায়ও।