দিল্লি থেকে তিন জনের প্রতিনিধিদল ভাটপাড়া নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন ও এলাকায় সন্ত্রাস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট দেবেন তাঁরা

মুখ্যমন্ত্রী সময় দিয়েছিলেন ৭২ ঘণ্টা। কেটে গিয়েছে ৪৮ ঘন্টা। শান্তি ফেরা নাম নেই। শ্মশানের মতো থমথম করছে গোটা ভাটপাড়া এলাকা। ভাটপাড়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল তৈরি করেছে বিজেপি। এস এস আলুওয়ালিয়া, সত্যপাল সিং এবং বিডি রামের এই দলটি আজ গোটা অঞ্চল ঘুরে দেখবেন। সূত্রের খবর ছিল, বারুদে আগুন পড়তে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিদর্শনকালে। হলও তাই। হাজার মানুষ পথে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন। জানালেন অসুূবিধের কথা। জয় শ্রীরাম ধ্বনি উঠল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গত বৃহস্পতিবার থেকে দফায় দফায় অশান্তি চলছে ভাটপাড়ায়। ওই অঞ্চলে একটি থানা উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকালে অশান্তি। পুলিশি ধরপাকড়-গোলাগুলির মধ্যেই আঘাতে মারা যান রমেন্দ্র সাউ নামক জনৈক ফুচকা বিক্রেতা। প্রাণ যায় ধর্মেন্দ্র সাউ নামক অন্য এক যুবকেরও। পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

অবস্থার গুরুত্ব বুঝে রাতারাতি সরানো হয় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার তন্ময় চৌধুরীকে। তাঁর জায়গায় আসেন মনোজ বর্মা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে ৭২ ঘণ্টা সময়ও দিয়ে দেন সমস্যা মোকাবিলা করে শান্তি ফেরত আনার জন্যে। 

কিন্তু শুক্রবার ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঘোষপাড়া। নতুন করে অশান্তি শুরু হয় মৃতদেহ নিয়ে বিজেপি মিছিলের আয়োজন করলে। মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন সাংসদ অর্জুন সিংহ।

সর্বশেষ পাওয়া খবরে, দিল্লি থেকে তিন জনের প্রতিনিধিদল কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ভাটপাড়া পৌঁছেছেন তাঁরা। সেইখানে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। মৃত ফুচকা বিক্রেতার মা বলেন, তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। এলাকাবাসীও অভিযোগ জানান। অর্জুন সিংহ উপস্থিত ছিলেন সে সময়। এলাকায় সন্ত্রাস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট দেবেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত এদিন ভাটপাড়া পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাওয়ার সময় কাকিনাড়া বাজার এলাকায় প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন সুজন চক্রবর্তী আব্দুল মান্নান তড়িৎ তোপদার সহ অন্যান্য বাম ও কংগ্রেস প্রতিনিধিরা।