Bankura: রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ফের শিরোনামে বাঁকুড়া। ভোটাভুটির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ১ নম্বর ব্লকের জগদল্লা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল বিজেপি।
Bankura: রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে ফের শিরোনামে বাঁকুড়া। ভোটাভুটির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ১ নম্বর ব্লকের জগদল্লা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল বিজেপি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়ে তৃণমূলের হাতছাড়া হলো এই পঞ্চায়েতের রাশ। তবে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখলের পাশাপাশি এদিনের ঘটনাক্রমে প্রশাসনিক চত্বরে দেখা গেল নজিরবিহীন দৃশ্য। নবনির্বাচিত প্রধানকে আসনে বসানোর আগে পুরো পঞ্চায়েত কার্যালয় গঙ্গাজল ও গোবর জল ছিটিয়ে 'শুদ্ধিকরণ' করলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও কর্মীরা।
ভোটের অঙ্ক ও ক্ষমতার হাতবদল
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে ১৪ আসন বিশিষ্ট জগদল্লা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে কোনো দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৭টি আসন, বিজেপি ৬টি আসন এবং ১টি আসনে নির্দল প্রার্থী জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্য কোল বদলে তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ায় পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের পথ মসৃণ হয় এবং শাসকদলের হাতেই যায় পরিচালনার দায়িত্ব। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে আচমকাই পদত্যাগ করেন তৎকালীন তৃণমূল প্রধান, যার ফলে প্রধানের আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ডেকে পাঠানো তলবি সভায় এদিন ১৪ জন পঞ্চায়েত সদস্যই ভোটাভুটিতে অংশ নেন। ভোটাভুটিতে তৃণমূলের সমস্ত কৌশল ব্যর্থ করে বিজেপির প্রার্থী মৌসুমী বাউরি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন আদায় করে নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।
গঙ্গাজল ছিটিয়ে 'শুদ্ধিকরণ' বিতর্ক
ভোটাভুটির ফলাফল ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। দলীয় বিধায়কের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের আনাচে-কানাচে গঙ্গাজল ছেটানো হয়। বিজেপির দাবি, এতদিন ধরে শাসকদলের অধীনে থাকা পঞ্চায়েত চত্বরে যে "দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী পরিবেশ" তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণ। এরপরেই নবনির্বাচিত প্রধান মৌসুমী বাউরিকে ফুল ও মিষ্টি খাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানের চেয়ারে বসানো হয়। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হেয় করতেই এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বাতাবরণ তৈরি করতে বিজেপি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী।


