নিছকই 'মজা' করতে চেয়েছিলেন তিনি। করোনার 'প্রতিষেধক' হিসেবে গোমূত্র বিক্রি করে শেষপর্যন্ত গ্রেফতার হলেন হুগলির ডানকুনির এক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো, অস্বাস্থ্যকর পানীয় বিক্রি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: করোনার মতোই ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে 'গোমূত্র পান', এবার তালিকায় রায়গঞ্জ

মুখে মাস্ক পরতে হবে না, বারবার হাতও ধুতে হবে না। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গোমূত্রকেই কার্যত ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার নিদান দিয়েছে হিন্দু মহাসভার কর্মীরা। স্রেফ মুখের কথাই নয়, শনিবার দিল্লিতে গোমূত্র পার্টির আয়োজন করেছিলেন হিন্দু মহাসভার প্রধান চক্রপানি মহারাজ। সোমবার হুগলির ডানকুনিতে দিল্লির রোডের কাছে গোমূত্র বিক্রি করতে দেখা যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ মামুদকেও। তাঁর বক্তব্য ছিল, গোমূত্র পান করলেই নাকি করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে! করোনা আতঙ্ক এতটাই ছড়িয়েছে যে, রীতিমতো লাইন নিয়ে দোকান থেকে গোমূত্র কেনেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার রাস্তা দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেও গোমূত্র পানও করেন।  ঘটনাটি জানাজানি হতে শোরগোল পড়ে যায়।

আরও পড়ুন: করোনা গুজব, সামাজিক বয়কটের মুখে চিন ফেরত চিকিৎসকের পরিবার

জানা দিয়েছে, সোমবার রাতেই শেখ মামুদকে গ্রেফতার করে ডানকুনি থানার পুলিশ।  তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে শ্রীরামপুর আদালত। ধৃতের দাবি, নিছকই মজা করার জন্য রাস্তার পাশে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন তিনি।  গোমূত্র নয়, আসলে বাতাসার জল বিক্রি করছিলেন তিনি। প্রয়োজনে তা প্রমাণও করে দেবেন। এদিকে  করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে যদি গোমূত্র পান করা হয়, সেক্ষেত্রে বিপদ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করেছেন চিকিৎসকরা। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চুচূড়া শাখার সভাপতি ইন্দ্রনীল চৌধুরীর বক্তব্য, মল-মূত্রের সঙ্গে প্রাণীদের শরীরের বর্জ্যপদার্থ মিশে থাকে। গোমূত্র পান করার বিষপানের মতোই ক্ষতিকর। এতে হার্ট ও কিডনির মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে।