Cal HC On Tulu Mandal: আগাম জামিনের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেদ্বারস্থ হলেও খুব একটা লাভ হল না বীরভূমের পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডলের। মামলায় ছেড়ে দিলেন বিচারক। কী বলল আদালত? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।। 

Cal HC On Tulu Mandal: হাইকোর্টে অস্বস্তি বাড়ল বীরভূমের 'পাথর সম্রাট' টুলু মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্ৰেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নাজিমুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। কিন্তু তাঁর এই মামলা ফিরিয়ে দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। যেহেতু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসে টুলু মণ্ডলের রক্ষাকবচের আবেদনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই এই মামলাটি ফিরিয়ে দিলেন বিচারপতি চন্দ।

টুলু মণ্ডলকে নিয়ে কী বলল কলকাতা হাইকোর্ট? 

বীরভূমের পলাতক 'পাথর সম্রাট' নাজিমুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বীরভূমের সিউড়ি অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি হাজিরা না দিলে তাকে ঘোষিত দোষী বলে গণ্য করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলেও জানিয়েছে আদালত। তারপরও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন টুলু মণ্ডল। তিনি কোথায় রয়েছেন, তার হদিস এখনো পর্যন্ত পায়নি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে টুলুর সিউড়ি সুভাষ পল্লীর বাড়িতে নোটিশ লাগিয়ে দিয়ে আসে। শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে সিউড়ি আদালতে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই নোটিসে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ইন্টারপোলের ‘রেড কর্নার’ নোটিসও জারি হয়েছে টুলুর বিরুদ্ধে।

সেই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন টুলু। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মামলা যখন শুনানির জন্য উঠে তখন টুলুর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য্য এবং সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, যেহেতু তুলো মন্ডলের অন্য একটি মামলা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসে চলছে, তাই তিনি এই মামলার শুনানি করবেন না। সেই কারণে তিনি মামলাটি ফিরিয়ে দেন।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি বেপাত্তা।বীরভূমের পাথর 'সম্রাট' তথা ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল নাকি বিদেশে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এমনটাই জানিয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। সেই টুলু মণ্ডল গত ৫ আগস্ট আইনি রক্ষাকবচের আবেদন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সম্প্রতি এসটিএফ অভিযান চালিয়ে টুলুর বিশাল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রায় ১৪৪ কোটি নগদ টাকা, ২৪২টি গাড়ি, ৩০০ বিঘা জমি সহ ২১টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টুলুর বিশাল সম্পত্তির তল পেতে তাঁর আত্মীয়-স্বজন, শ্যালক এবং শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছে এসটিএফ। বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার দেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকেও নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ কেজি সোনাও উদ্ধার করা হয়েছে।

Cal HC On OBC Certificates: তৃণমূল সরকারের আমলে ইস্যু হওয়া সমস্ত OBC সার্টিফিকেট অবৈধ, বড় নির্দেশ আদালতের

ইতিমধ্যেই টুলুর ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিনারের বাড়ি থেকে নগদ এবং সোনা উদ্ধারের পর বীরভূম জেলা পুলিশ টুলুর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। পুলিশ সূত্রে খবর, এছাড়াও টুলুর বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। জানা গিয়েছে, বিশাল নগদ এবং সোনা উদ্ধারের পর তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছে, সেই মামলাতেই গ্ৰেফতারির আশঙ্কা করে রক্ষাকবচের আবেদন করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন টুলু। সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন টুলু। তবে তার নতুন আবেদনের মামলাটি গ্ৰাহ্য না করে, ফেরত পাঠিয়ে দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। ফলে অস্বস্তি আরও বাড়ল টুলুর। এখন যদি আগামী কাল তথা শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে টুলু যদি সিউড়ি আদালতে হাজি টানা দেন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করতে আর কোনও বাধা থাকবে না পুলিশের।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অন্য জায়গায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর রাজ্যের রাজনৈতিক পালা বদল হতেই বেপাত্তা টুলু মণ্ডল। তিনি বিদেশে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে খবর। মামলা করতে গেলে ওকালতনামায় এবং মামলার নথিতে সই করতে হয় মামলাকারীকে। তাই যে টুলু মণ্ডলের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না, পলাতক অবস্থায় সে কী করে হাইকোর্টে একের পর এক মামলা করছেন, সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Scroll to load tweet…

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।