শর্তসাপেক্ষে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি দিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ। তবে মানতে হবে একাধিক শর্ত।

শর্তসাপেক্ষে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি দিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ। তবে মানতে হবে একাধিক শর্ত। বিজেপি ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি চেয়েছিল। বাংলায় বিজেপির যে ন’টি সাংগঠনিক বিভাগ রয়েছে, প্রতিটি থেকেই একটি করে পরিবর্তন যাত্রা বের হবে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে ১ মার্চ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে 'পরিবর্তন যাত্রা'-র কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য বিজেপি। এই যাত্রার সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির ময়দানে এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। পুলিশের কাছে পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি চেয়ে বিজেপি ২২ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেছিল। কিন্তু তার কোনও জবাব পুলিশ দেয়নি। পুলিশের কাছ থেকে জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে মামলা করে গেরুয়া শিবির।

কোন কোন শর্ত মানতে হবে?

এদিন শুনানিতে বিজেপির তরফে কোন জেলায় কোন জায়গায় কবে এই যাত্রা বা মিছিল হবে, তার তালিকা দেওয়া হয় হাইকোর্টকে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ সেই সূচি দেখে সামগ্রিকভাবে জানিয়ে দেন, ওই নির্দিষ্ট দিনগুলিতে ১০০০ হাজার লোক নিয়ে বেলা ২টো থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ওই মিছিল করতে পারবে বিজেপি। তবে যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলা জনিত সমস্যা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। পরিবর্তন যাত্রা চলাকালীন শব্দবিধি মানতে হবে। কোনওরকম কুরুচিকর, উত্তেজনামূলক মন্তব্য করা যাবে না। যানজট করা যাবে না৷ যান চলাচল যাতে স্বাভাবিক থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর পুলিশকে আগে থেকে দিয়ে রাখতে হবে। সরকারি সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্ট করা যাবে না। যদি কিছু হয়, তার দায় বিজেপিকে নিতে হবে। অনুষ্ঠান স্থল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

মোদীর সভা ভরানো চ্যালেঞ্জ

বিধানসভা নির্বাচনে এবার রাজ্যে পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যজুড়ে পরিবর্তন যাত্রাকে প্রচারের হাতিয়ার করতে সচেষ্ট হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন। আগামী ১ মার্চ কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি ও গড়বেতা থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি এবং আমতায় কর্মসূচি রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে যাত্রার উদ্বোধন করতে পারেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে ৯টিতেই এই পরিবর্তন যাত্রা হবে। একমাত্র কলকাতায় কোনও যাত্রা হবে না, কারণ এই বিভাগের ওপর দায়িত্ব রয়েছে ১৪ মার্চের ব্রিগেড সমাবেশ সফল করার। সেখানেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।