প্রয়াত হলেন প্রবীণ চিকিৎসক মণি ছেত্রী। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন পনেরো আগে বালিগঞ্জের বাড়িতে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন শতায়ু এই চিকিৎসক। তারপর তিনি ভর্তি ছিলেন মণিপাল হাসপাতালে।

প্রয়াত হলেন প্রবীণ চিকিৎসক মণি ছেত্রী। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন পনেরো আগে বালিগঞ্জের বাড়িতে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন শতায়ু এই চিকিৎসক। তারপর তিনি ভর্তি ছিলেন মণিপাল হাসপাতালে। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর অবশেষে ফিরেছিলেন বাড়িতে। আর সেখানেই মৃত্যু হল তাঁর। তিনি এক সময় রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তাও ছিলেন। তাঁর আট দশক বিস্তৃত বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি কলকাতার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের বিশ্বস্ত চিকিৎসক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, যাঁর চিকিৎসা তিনি দীর্ঘকাল ধরে করেছিলেন।

মণি ছেত্রীর জন্ম ১৯২০ সালে দার্জিলিঙে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডন থেকে এফআরসিএস (FRCS) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪০-এর দশকে কলকাতায় চিকিৎসা পেশা শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শহরের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। হৃদরোগবিদ্যা (Cardiology) এবং অন্তঃস্রাববিদ্যা (Endocrinology)—উভয় ক্ষেত্রেই অগ্রগতির ক্ষেত্রে তাঁকে একজন পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। এসএসকেএম হাসপাতালে সার্জেন-সুপারিনটেনডেন্ট পদে ছিলেন। আইপিজিএমইআরে কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর-ডিরেক্টর হিসাবেও দায়িত্ব সামলেছেন। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পদ্মশ্রী সম্মানও পেয়েছেন। এসএসকেএম হাসপাতালকে তৈরি করার পিছনে যে সব মানুষের অবদান সব থেকে বেশি, তার মধ্যে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হলেন মণি কুমার ছেত্রী।

আমরি (AMRI) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যখন ৯০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল, তখন ডাক্তার ছেত্রী ওই হাসপাতালের চিকিৎসা অধিকর্তা (Medical Director) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। বয়সকে কখনই নিজের মনের জোরের আগে যেতে দেননি তিনি। প্রায়ই বলতেন যে, শতবর্ষী হয়েও তাঁর এমন অটুট শারীরিক ও মানসিক শক্তির মূলে রয়েছে বংশগত বৈশিষ্ট্য বা 'জিন'। দীর্ঘ ও কর্মচঞ্চল জীবনের রহস্য সম্পর্কে ডা. ছেত্রী তাঁর রোগীদের বলতেন যে, একটি সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলাই হল এর মূলমন্ত্র।

সূত্রের খবর, পরিবারের অনেকেই উত্তরবঙ্গে থাকেন। তাঁরা আসছেন কলকাতায়। তাঁর আত্মীয় পরিজনরা আসার পর ৬ এপ্রিল শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে চিকিৎসক ড. মণি ছেত্রীর।