২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল হত্যা করা হয়েছিলে লালগড়ের জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া রয়্যাল বেঙ্গলকে। এক বছর তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরে বাঘ হত্যার তদন্তে জঙ্গলে এলেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য কীভাবে উঠে আসবে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন- বাঘের 'বাহার' রয়েছে, কিন্তু তারা কি আদৌ নিরাপদ, শাবকের মৃত্যুতে উঠছে প্রশ্ন

আরও পড়ুন- অ্যাডভেঞ্চারের টানে এবার জঙ্গলে নরেন্দ্র মোদী, দেখুন রুদ্ধশ্বাস টিজার

২০১৮ সালের শুরু থেকেই লালগড়ের জঙ্গলে বাঘ এসেছে বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শেষ পর্যন্ত গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বন দফতরের লাগানো ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি। বন দফতর অনুমান করে,  দেড় হাজার কিলোমিটার দূরের ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকেই বাঘটি লালগড়ে এসে পৌঁছেছিল। রয়্যাল বেঙ্গলকে ধরার অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় রাজ্যের বন দফতর। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ১৩ এপ্রিল শিকার উৎসব চলার সময় বাঘঘরার জঙ্গলে বাঘটিকে হত্যা করে কয়েকজন গ্রামবাসী। 

সেই ঘটনার তদন্তেই এ দিন বাঘঘরার জঙ্গলে যান কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ডব্লিউ লাম্বা। যে জায়গায় বাঘটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, সেখানে গিয়ে বন দফতরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বাঘটিকে ধরতে এবং তার নিরাপত্তায় বন দফতরের পক্ষ থেকে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চান লাম্বা। তিনি জানান, রাজ্যের তরফে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখতেই তিনি এসেছেন। তবে গ্রামবাসীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেননি। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তা জানিয়েছেন, বাঘ হত্যা কাণ্ডে বন দফতরের ভূমিকা কী ছিল, সেটাই তদন্ত করে দেখবেন তিনি। 

যদিও ওই কর্তাও স্বীকার করে নেন, বাঘ ধরা যেমন কঠিন, একই সঙ্গে তাকে মারাও কঠিন। রাজ্য বন দফতরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি খুশি কি না, তাও স্পষ্ট করেননি লাম্বা। বাঘঘকার জঙ্গলের যে অংশে বাঘটিকে দেখা যেত, সেই এলাকাগুলিও ঘুরে দেখেন তিনি। লালগড় থেকেই কলকাতায় এসে রাজ্যের মুখ্য প্রধান বনপালের সঙ্গেও কথা বলার কথা লাম্বার। তিনি জানিয়েছেন, যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ রয়েছে, তাই যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেবেন তিনি।