Chandranath Rath Death News: চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় খোঁজ মিলল তৃতীয় ব্যক্তির। কী হয়েছিল সেইদিন রাতে শুভেন্দুর আপ্ত সহায়কের সঙ্গে? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Chandranath Rath Death News: চন্দ্রনাথ রথ খুনে সেই তৃতীয় ব্যক্তির খোঁজ মিললো অবশেষে। মধ্যমগ্রাম শুট আউট কান্ডে শুভেন্দু অধিকারী আপ্তসহায়কের মৃত্যু এবং গাড়ির চালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার মধ্যে হারিয়ে যায় তৃতীয় ব্যক্তি। সকলের সামনে তৃতীয় ব্যক্তির কথা এলেও কেউ তার খোঁজ ঘটনার পরবর্তীতে আর নিতে পারেনি ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অবশেষে তৃতীয় ব্যক্তি মন্টু মন্ডলে খোঁজ করতে তার বাড়িতে পৌছালে তিনি এখনো ট্রমা থেকে বের হতে পারছেন না। জানা গিয়েছে, কারও সঙ্গেই কথা বলছে না। সেই রাতে রক্তমাখা শরীরে স্যারকে হারানো ব্যাথা ভুলতে পারছে না।কি হবে,কিভাবে চলবে ভেবে কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না।রুজিরুটি যার জন্য,মাসের মাইনেটা যার কাছ থেকে পেত,সে চোখের সামনে খুন হয়ে গেলো।মন্টু মন্ডলের দাদা ঝন্টু মন্ডল আজ আমাদের ক্যামেরার সামনে ভাইরে মুখে শোনা ফিল্মি কায়দায় শুট আউটের কথা শোনালেন। 

ঠিক কী ঘটেছিলো সেদিন চন্দ্রনাথের সঙ্গে?

মন্টু ছিলেন পিছনে সিটে কিন্তু রাস্তার দিকে নয়,গাড়ির মাঝের সিটে ব্যাগ কাগজপত্র ছিলো,যেমনটা প্রতিদিন থাকে।যারা এসে স্যার অর্থাৎ চন্দ্রনাথ রথ কে গুলি করে তারা হয়তো দেখতে পাইনি পিছনের সিটে কেউ আছে।তাই প্রাণ রক্ষা হয় মন্টুর।মন্টু চন্দ্র দার কাছেই কাজ করে।সেদিন চন্দ্র দা গ্রামের বাড়ি চন্ডিপুরে গিয়েছিল,সময়মতই বাড়ি ফিরছিলো সেইদিন।চন্দ্রনাথ তার মধ্যমগ্রামের বাড়ি ঢোকার ১০০-১৫০ মিটার আগে দুষ্কৃতিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

মন্টু কাঁদতে অনেক সাহায্য চেয়েছে কেউ এগিয়ে আসেনি দু-একজন ছাড়া।এখন সংবাদমাধ্যমের সামনে অনেকেই প্রত্যক্ষদর্শী বকে দাবি করেছে,কিন্তু সেইসময় তাদেরকে পাওয়া যায়নি।সেইসময় যাদের দেখা গেছে তারা সকলেই মোবাইলে ছবি তুলতে ব্যাস্ত ছিলো।দাদা হিসাবে ঝন্টু মনে করে এটা সামাজিক অবক্ষয়।

জনবহুল এলাকায় ঘটনা ঘটেছে,সেখানেই এমন পরিস্থিতি।গাড়ি চালক তখন রাস্তায় পরে আছে,ভাই হাউ হাউ করে কাঁদছে, কিন্তু সাহায্য মেলেনি দু-একজন ছাড়া।আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ হচ্ছে,সেই সরকারের কাছে বারাসারবাসী হিসাবে ঝন্টু মন্ডলে দাবি সর্বত্র মিডিয়াব্যাপি টাকা খরচ করে নানান অনুষ্ঠান করলেও এই সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে। শুভেন্দু দার পি এ বলে সাহায্য পাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর পি এ বলে সে সাহায্য পাবে,অভিষেকের পিএ হকে সাহায্য পাবে আর একজন রিক্সা চালক সাহায্য পাবে এটা হতে পারে না।প্রাণের দাম সবারই আছে।সেইদিন সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পেলে হয়তো ড্রাইভার আরও আগে চিকিৎসা পেতো।চন্দ্রনাথ রথ বিধানসভার কর্মচারী, চন্দ্রনাথ দা কাজকর্ম ভাই করত,সেদিন মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় ফিরে শুভেন্দু দার নিজাম প্যালেসের অফিস হয়ে মধ্যমগ্রামের অফিসে ফিরেছিলো।

ভাই এর অনুমান দুষ্কৃতিরা চন্দ্র দা কে মারতে এসেছিলো যেহেতু চালক ছিলো তাই চালকেও গুলি করে,যেনো গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে না নিয়ে যেতে পারে,কিন্তু ভাই মন্টু গাড়ি চালাতে পারতো,তাই ভাই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে আসে হাসপাতালে।স্থানীয় লোকজনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ডল পরিবার,তারা কেউ সেই অর্থে এগিয়ে আসেনি।গত ১৫ বছর ধরেই দুষ্কৃতি দৌরাত্ম বেড়েছে রাজ্যজুড়ে, বাদা যায়নি মধ্যমগ্রামোও,আর যে জায়াগায় এই ঘটনা সেখানেও দুষ্কৃতি দৌরাত্ম আছে বলেই মনে করেন।

ভাই এর মুখ থেকে শোনা ঘটনাটি ১০ টা থেকে ১০ টা ১০ এর মধ্যে ঘটে।গাড়ি একদম পিছনে থাকার কারণে এক দু সেকেন্ড মন্টু উপরে তাকিয়ে ছিলো,গুলি শুরু হতেই নিচে বসে পড়ে,১৫-২০ সেকেন্ডের অপারেশন,গুলির আওয়াজ বন্ধ হতে উপরে উঠে দেখে সব শেষ।ঘটনার পর চন্দ্রনাথ রথ এর ফোন বাজে,ফোন রিসিভ করে মন্টু,ফোনের ওপারে ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ,ভাই এর মুখ থেকই জানতে পারে চন্দ্র দা কে গুলি করেছে।বাইকে করে এসেই গুলি চালিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে বুঝতে পারে মন্টু,তবে একটি চারচাকা গাড়ি সামনে থেকে পথ আটকে এসেছিলো।দুষ্কৃতিরা কিছু বলেছে কি না তাও বোঝা যায়নি, কারণ গাড়ির কাঁচ আটকানো ছিলো।মন্টু মন্ডলের সাথে ইতিমধ্যে সি আই ডি আধিকারিকরা কথা বলেছেন,মধ্যমগ্রাম থানা থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে।ভাই মন্টুর বয়ান এটাই যা আজ আমাদের কে দাফা ঝন্টু মন্ড জানালেন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।