হাওড়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠকের ঘটনা বৈঠকের আগেই আচমকা বস্তি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী বস্তির হাল দেখে ক্ষুব্ধ মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ রায়কে ভর্ৎসনা  

হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বৈঠক শুরুর আগেই আচমকা শহরের একটি বস্তিতে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে গিয়ে তিনি শুনলেন, চারশো বস্তিবাসীর ব্যবহাররের জন্য রয়েছে দু'টি মাত্র বাথরুম। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বস্তিবাসীর কাছে এমন অভিযোগ শুনেই প্রশাসনিক বৈঠকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার রোষ থেকে বাঁচেননি পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং স্থানীয় বিধায়ক অরূপ রায়ও। ক্ষুব্ধ মমতা জানিয়ে দেন, তিনি কোনও কথা শুনতে চান না। অবিলম্বে ওই বস্তিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শৌচাগার-সহ অন্যান্য পরিষেবার ব্যবস্থা করার জন্য হাওড়া পুরসভার প্রশাসককে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকের আগে হাওড়া শহরের রাউন্ড ট্যাঙ্ক লেনের পুরনো বস্তিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখনই তিনি জানতে পারেন, প্রায় চারশো বস্তিবাসীর ব্যবহারের জন্য রয়েছে দু'টি মাত্র বাথরুম। শুধু তাই নয়, রেশন কার্ড পাননি বলেও অভিযোগ জানান বস্তিবাসীরা।

আরও পড়ুন- অটলের মৃত্যুবার্ষিকীতে মমতার শ্রদ্ধা, নাম না করেই কাশ্মীর নিয়ে খোঁচা

এ নিয়েই প্রশাসনিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বস্তি উন্নয়নের টাকা দেওয়া হয়। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কে ছিল? সে কি চোখ দিয়ে দেখেনি? আমি কোনও কথা শুনতে চাই না। কাউন্সিলরদের তো এটা দেখা কাজ কোথায় রেশন কার্ড পাচ্ছে না, কোথায় বাথরুম নেই।' 

মুখ্যমন্ত্রী কাউন্সিলরের খোঁজ করতেই তাঁর কাছে গিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেলে রয়েছেন। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাউন্সিলর জেলে থাকলেও হাওড়া পুরসভা এখন প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছে। তাঁরই বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। প্রসঙ্গত একটি খুনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় দু' বছর ধরে জেলে রয়েছেন হাওড়ার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈলেশ রাই। কংগ্রেসের কাউন্সিলর হলেও তিনি তৃণমূল পুরবোর্ডকেই সমর্থন করেছিলেন। 

এর পরেই বস্তির হাল নিয়ে পুরমন্ত্রী এবং বিধায়ক অরূপ রায়কে ভর্ৎসনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের অন্যতম আস্থাভাজন ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ববিকে তো আমি বস্তিতে শৌচাগারের কথা বলে বলে ফেড আপ হয়ে গিয়েছি। আমরা তো বস্তিগুলিতে দশটা করে বাথরুম করে দেওয়ার কথা বলেছি, তার পরেও কেন হবে না?' 

এর পরেই বিধায়ক অরূপ রায়কে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, 'অরূপ তোমার এলাকার কাজ আমি করব না। তোমাকে করতে হবে। আবার ওখানে গিয়ে বলবে না কেন দিদিকে বলেছে। পাবলিকের কী আছে না আছে, তা দেখার অধিকার তোমারও আছে আমারও আছে।'

ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, 'আমাদের বাড়িতে একটা বাথরুম দু' দিনের জন্য বন্ধ থাকলেই কত অসুবিধা হয়। আর চারশো মানুষ কীভাবে দুটো বাথরুম ব্যবহার করে?' অবিলম্বে ওই বস্তিতে শৌচাগার করে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানকার বাসিন্দাদের রেশন কার্ডও তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। দলের জনপ্রতিনিধিদের তাঁর পরামর্শ, 'মাঝে মাঝে বস্তিগুলোয় যান, মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। তাতে অনেক জ্ঞান বাড়ে।' 

সে নেই তো কী হয়েছে। এখন তো কাউন্সিলর নেই তাদের রেশন কার্ড নেই কেন?অরূপ তোমার এলাকার কাজ আমি করব না। তোমাকে করতে হবে। আবার ওখানে গিয়ে বলবে না কেন দিদিকে বলেছে। পাবলিকের কী আছে না আছে, তা দেখার অধিকার তোমারও আছে আমারও আছে।