হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যু 'আত্মহত্যায় প্ররোচনা'র অভিযোগে গ্রেফতার আরও ১ সিআইডি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মিলল সাফল্য সিবিআই তদন্তের দাবি খতিয়ে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট

দ্বৈপায়ন লালা, মালদহ: সুপ্রিম কোর্টে যখন সিবিআই তদন্তের আবেদনের শুনানি চলছে, তখন হেমতাবাদে বিজেপি বিধায়ককে 'আত্মত্যায় প্ররোচনা' দেওয়ার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেফতার করল সিআইডি। এর আগে বুধবার ঘটনার সিবিআই তদন্ত প্রসঙ্গে রাজ্যকে নোটিশ পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেকারণেই রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বাড়ল? প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। এমনকী, চক্রান্তের সম্ভাবনাও খারিজ করে দিচ্ছে না গেরুয়াশিবির।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসের থাবা ব্লক অফিসে, পুরুলিয়ায় আক্রান্ত জয়েন্ট বিডিও

ঘটনার সূত্রপাত গত মাসের গোড়ার দিকে। ১৩ জুলাই সাতসকালে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বালিয়া মোড়ে একটি বন্ধ দোকানের সামনে থেকে উদ্ধার হয় বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাস্থলে তাঁর বাডড়ির দূরত্ব খুব বেশি নয়। পুলিশের দাবি, বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিধায়ক। এমনকী, পকেট থেকে সুইসাইট নোটও পাওয়া গিয়েছে। সেই সুইসাইট নোটের সূত্র ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডি। বস্তুত, ময়নাতদন্তে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুলন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধের কারণে মারা গিয়েছে দেবেন্দ্রনাথ রায়। শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই, আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে খবর, বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায় সুইসাইট নোটে নিলয় সিংহ ও মামুদ আলি নামে দু'জনের নাম উল্লেখ করে গিয়েছে। তাঁদের বাড়ি মালদহে। যেদিন দেহ উদ্ধার হয়, তার পরের দিনই মালদহ শহরে মকদমপুর এলাকার একটি আবাসনের অভিযান চালিয়ে নিলয়কে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি। কিন্তু সেদিন মালদহের চাঁচোলের মতিহার পঞ্চায়েতের ইসলামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়েও অপর অভিযুক্ত মাসুদ আলির সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার বিকেলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদহের মোথাবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও সিআইডি। একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় মাসুদ আলিকে। তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রায় এক মাস ধরে বারবার আস্তানা পাল্টাচ্ছিল মাসুদ। শেষপর্যন্ত দিন তিনেক আগে আশ্রয় নেয় মোথাবাড়িতে, এক আত্মীয়ের ঠিকানায়। ধৃতে রায়গঞ্জে আনা হচ্ছে বলে জানা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু, আদালতে পলিগ্রাফ টেস্টের আবেদন সিবিআই-এর

এদিকে বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ আত্মহত্যা করেছেন, একথা মানতে নারাজ পরিবারের লোকেরা। তাঁদের অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। সিবিআই তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন নিহত বিধায়কের স্ত্রী চাঁদিমা রায়। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর মামলা দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার বিধায়কের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্ত নিয়ে রাজ্য় ও কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।