কোথাও দেড়শো টাকা, আবার কোথাও মাত্র ২০০ টাকা বস্তা। এই হল রাজ্যে এবছর আলুর দাম। যার কারণে মাথায় আকাশ ভেঙে প়ডেছে চাষিদের। লাভ তো ঘরে তোলা অনেক দূর, চাষিদের দাবি, আলু চাষে বিঘা প্রতি খরচটাই উঠছে না। যদিও মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দাবি করেছেন, আলু চাষিদের কথা ভেবে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

কোথাও দেড়শো টাকা, আবার কোথাও মাত্র ২০০ টাকা বস্তা। এই হল রাজ্যে এবছর আলুর দাম। যার কারণে মাথায় আকাশ ভেঙে প়ডেছে চাষিদের। লাভ তো ঘরে তোলা অনেক দূর, চাষিদের দাবি, আলু চাষে বিঘা প্রতি খরচটাই উঠছে না। যদিও মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দাবি করেছেন, আলু চাষিদের কথা ভেবে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকার আলু কিনতে শুরু করেছে। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, "আলু চাষিদের জন্য লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্যবারের মতো এবারও ‘আলু সংগ্রহ’ প্রকল্প চালু রাখা হয়েছে। আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে কুইন্টাল পিছু ৯৫০ টাকা করা হয়েছে। আমাদের সমবায় দফতরের হিমঘর-সহ রাজ্যের প্রায় সমস্ত হিমঘর এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। রাজ্যের হিমঘরে ছোট আলু চাষিদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত আছে।"

এবছর আলু চাষে বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ৩৫ হাজার টাকার উপর। বিঘা প্রতি আলু উৎপাদ হয়েছে প্রায় ৮০ বস্তা (৫০ কেজি)। রাজ্য সরকার আলুর সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪৭৫ টাকা (৫০ কেজি)। একজন চাষি সর্বাধিক ৩৫ কুইন্টাল অর্থাৎ ৭০ বস্তা পর্যন্ত আলু সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। রাজ্যের আলু উৎপাদনের প্রধান ১২টি জেলায় এই প্রকল্প কার্যকর করা হবে। হিসাব অনুযায়ী, সরাকরি সহায়ক মূল্যে চাষিরা আলু বিক্রি করলে হাজার দুয়েক টাকা লাভ দেখতে পাবেন।

আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গতবার আলুর ওঠার কিছুদিন পর থেকেই ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার আলুর ফলন এত হয়েছে যে তা বাইরে না গেলে চাষিরা দাম পাবেন না। এছাড়াও, অন্য রাজ্যের ব্যবসায়ীদের থেকে এ রাজ্যের ব্যবসায়ারী টাকা পাবেন। সেই টাকাও পড়ে রয়েছে আলু না যাওয়ার কারণে। যদিও মুখ্য়মন্ত্রী মমতা এদিন জানান, আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত না করে অন্য রাজ্যে আলু রফতানি করতে চাইলে, রাজ্য সরকার কৃষকের স্বার্থে তাতে কোনও বাধা দেবে না। আলুর ক্ষেত্রে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে রাজ্যের উৎসাহই রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি মুখ্যমন্ত্রীর আজকের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। আলু ব্যবসাসীদের এই সংগঠনের রাজ্য উপদেষ্টা বিভাস দে বলেন, "আমরা মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে সমস্যায় না পড়েন তা নিশ্চিত করুন মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার।" পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।