ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি লাগু করতে দিন দুই আগেই জেলায় জেলায় নোটিস পাঠিয়ে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বিষয়কেই আরও একবার জোর দিলেন তিনি।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় বাড়ছে। বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা! সেই বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই আবহে নয়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি লাগু করতে দিন দুই আগেই জেলায় জেলায় নোটিস পাঠিয়ে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বিষয়কেই আরও একবার জোর দিলেন তিনি।

অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু, “জলদি জলদি ভাগো…।”
মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “জলদি জলদি ভাগো। হাকিমপুরের ব্যাপারটা আমি টিভিতে দেখলাম। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। তাড়াতাড়ি পালাও।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ ওদের কেন দেব আমরা?”
মঙ্গলবার সকালে হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ট্রলি, লোটা-কম্বল নিয়ে ভিড় করেছেন বহু অবৈধ অভিবাসী। প্লাস্টিক পেতে বসে রয়েছেন জটলা করে। অপেক্ষা, কখন ডাক আসবে সীমান্ত পার করার জন্য। সোমবারও চেকপোস্টের কাছে ছাউনিতে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ১০০ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। বাইরে অপেক্ষা করছিলেন আরও ৩০-৪০ জন। সম্প্রতি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। ওই ঘোষণা হতেই এ বার ফের বাংলাদেশে ফেরার জন্য ব্যস্ততা শুরু হয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে।
শুভেন্দু এদিন আরও একবার ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি নিয়ে জোর সওয়াল করলেন। অনেক আগে থেকেই এই আইন ছিল। এবার সেই এখানে লাগু করা হল। অনুপ্রবেশকারীদের ধরলে কোর্টে পাঠানোর দরকার নেই। বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্ত পার করে দেওয়ার বিষয়েই তিনি জোর দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের ধরার পর তাঁদের সাধারণ মানুষের অর্থে খাওয়ানোর পরিপন্থী শুভেন্দু। এদিন সেই কথা আরও একবার জোর গলায় জানিয়ে দিলেন তিনি।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বে এ দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। রাজ্যে সরকার বদল হতেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে হাকিমপুর সীমান্তে ফের দেখা গেল সেই এক ছবি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চেকপোস্টের কাছে ফের ভিড় করছেন অনুপ্রবেশকারীরা।


