দ্বৈপায়ন লালা, মালদহ: স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত আর অপেক্ষা করেননি, পেটের দায়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন বাড়ির বাইরে।  জনবহুল এলাকা থেকে করোনা আক্রান্ত এক মুড়ি বিক্রেতাকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ! ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহে শহরে। 

আরও পড়ুন: মমতার শুবুদ্ধি হোক, 'মা বিপদতারিণীর' কাছে প্রার্থনা অগ্নিমিত্রার

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকই হোন কিংবা বিডিও, করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই নেই কারওই। আনলকে পর্বে মালদহে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। বুধবার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে ওল্ড মালদহের বিডিও-র। কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি তিনি। শুধু তাই নয়, গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কায় আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিডিও অফিসও। এই যখন পরিস্থিতি, তখন ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল মালদহ শহরে।

জানা গিয়েছে, যে মুড়ি বিক্রেতা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর বাড়ি মালদহ শহরের বালুচর এলাকায়। দিন কয়েক আগে তাঁর বাড়ির পাশে দু'জনের লালারস বা সোয়াব পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর ওই মুড়ি বিক্রেতা-সহ এলাকার সকলেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগে শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়ারা মোড়ে যথারীতি মুড়ি বিক্রি করতে শুরু করে দেন তিনি। করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে শনিবার। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়।

আরও পড়ুন: করোনার থাবা এবার বিধান নগর সাইবার ক্রাইম থানায়, আক্রান্ত ৫ পুলিশ কর্মী

তখন রাস্তায় উপচে পড়া ভিড়। এলাকার সমস্ত দোকানে অবাধে চলছে কেনা-বেচা। আচমকাই মালদহ শহরের ফোয়ারা মোড়ে একটি খাবারের দোকানকে ঘিরে ফেলেন পুলিশকর্মীরা। তড়িঘড়ি সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় পথ চলতি মানুষকে। ওই মুড়ি বিক্রেতা যে করোনা আক্রান্ত, তা আর বুঝে যান সকলেই। ঘটনাস্থলে চলে আসেন ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক নীহাররঞ্জন ঘোষ। গোটা এলাকা স্যানিটাউজ বা জীবাণুমুক্ত করা হয়। এরপর পুরসভার অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে ওই মুড়ি বিক্রেতাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কোভিড হাসপাতালে।