বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলায় রায় (DA Case Verdict West Bengal) ঘোষণা করেছে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ এখনই রাজ্য সরকারকে ২৫% বকেয়া DA মিটিয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয়।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলায় রায় (DA Case Verdict West Bengal) ঘোষণা করেছে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ এখনই রাজ্য সরকারকে ২৫% বকেয়া DA মিটিয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয়। ৩১ মার্চের মধ্যে এই বকেয়া মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে। বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে মহার্ঘ ভাতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। তবে জানিয়েছে, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পাওয়ার অধিকারটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মচারীদের জন্য একটি আইনত বলবৎযোগ্য অধিকার।
ঠিক কী কী পর্যবেক্ষণ আদালতের
২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ ছিল, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বেঁধে দিল সময়ও। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার সভাপতিত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি।
ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তারলোক সিং চৌহান এবং বিচারপতি গৌতম ভাদুরিকে এই কমিটিতে থাকছেন। এছাড়াও, আর্থিক ও নিরীক্ষা সংক্রান্ত মতামত দেওয়ার জন্য আদালত ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অথবা সেই প্রতিষ্ঠান থেকে মনোনীত একজন সিনিয়র আধিকারিককে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত যদিও এই মর্মে রাজ্যের আপিল আংশিকভাবে মঞ্জুর করেছে যে কর্মচারীরা বছরে দুবার ডিএ পাওয়ার অধিকারী নন এবং এটিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করার প্রশ্নটি অমীমাংসিত রেখেছে, তবে এটি দৃঢ়ভাবে বলেছে যে ROPA বিধি অনুসারে পারিশ্রমিক নির্ধারণের জন্য সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI) অবশ্যই মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে মহার্ঘ ভাতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে হাইকোর্টের স্বীকৃতির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করেছে যে উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আর অগ্রসর না হতে সম্মত হয়েছে। ফলস্বরূপ, আদালত এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আইনি প্রশ্নটি ভবিষ্যতের কোনও উপযুক্ত মামলায় নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত রেখেছে।
আদালত রাজ্যকে কমিটির কাজের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, আদালত আদেশ দিয়েছে যে কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কিত সমস্ত খরচ সম্পূর্ণরূপে রাজ্যকেই বহন করতে হবে।
আদালত কমিটির প্রাথমিক দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ঠিক কত বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা নির্ধারণ করার জন্য কমিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করবে। এছাড়াও, কমিটিকে একটি বাধ্যতামূলক বকেয়া পরিশোধের সময়সূচি এবং পর্যায়ক্রম যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, বকেয়া গণনা এবং অর্থ প্রদানের সময়সূচি চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি অবশ্যই ২০২৬ সালের ৬ই মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
প্রথম কিস্তিটি ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। আদালত বলেছেন যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও এই রায় অনুযায়ী সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
প্রথম কিস্তি পরিশোধের পর কমিটিকে একটি চূড়ান্ত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে, যেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত, অর্থ প্রদানের সময়সূচি এবং বাস্তবায়নের অবস্থা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।
