দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) তাদের সেই পুরনো দিনের আভিজাত্য ও আকর্ষণ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পাহাড়ি পথে ওয়াগন পরিষেবা পুনরায় চালু করেছে। কয়েক দশক আগে এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার টয়ট্রেনে মালও নিয়ে যাওয়া যাবে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) তাদের সেই পুরনো দিনের আভিজাত্য ও আকর্ষণ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পাহাড়ি পথে ওয়াগন পরিষেবা পুনরায় চালু করেছে। কয়েক দশক আগে এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার টয়ট্রেনে মালও নিয়ে যাওয়া যাবে। শনিবার DHR-এর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী বলেন, আমরা DHR-এর সেই গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে তুলে ধরতে চাই, যখন বাষ্পচালিত ইঞ্জিনগুলো যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি মালবাহী ওয়াগনও টেনে নিয়ে যেত। তিনধারিয়া রেলওয়ে ওয়ার্কশপে দুটি ওয়াগনকে সংস্কার ও সচল করার পর এই মাসেই প্রতীকী হিসেবে এই পরিষেবাটি চালু করা হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘সাউথ এশিয়ান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এন্টারপ্রাইজ’—যা পর্যটন শিল্পের অন্যতম বৃহত্তম মেলা—সেখানে DHR-এর আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই মেলায় DHR তাদের এই ওয়াগন পরিষেবার প্রচার চালায় এবং সেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীদের কাছে এটি ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। অনেকেই এর জন্য অগ্রিম বুকিংও করেছিলেন। DHR-এর আধিকারিকরা জানান, পর্যটনপ্রেমী কোনও ব্যক্তি বা ছোট দল চাইলে এই ওয়াগন পরিষেবাটি ‘চার্টার’ বা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ভাড়া করতে পারবেন। একটি বাষ্পচালিত ইঞ্জিন দুটি পণ্যবাহী ওয়াগনকে টেনে নিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি একটি খোলা ছাদযুক্ত কোচও থাকবে, যেখানে ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী বসতে পারবেন।

১৯৯০-এর দশকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে এই পরিষেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে পর্যন্ত পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের সাহায্যে মালবাহী ওয়াগন চলাচলের দৃশ্যটি দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত একটি দৃশ্য ছিল। ২০১১ সালে একবার এই ওয়াগন পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। আধিকারিকরা জানান, দার্জিলিং টয়ট্রেনের সেই পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতেই এই সাম্প্রতিক উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। গত ১ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে একদল জার্মান পর্যটক এই পরিষেবা নিয়েছেন। তাঁরা তিনধারিয়া–রংটং, কার্শিয়ং–দার্জিলিং এবং ঘুম–দার্জিলিং—এই ছোট ছোট পথগুলোতে ভ্রমণ করেন। এই ভাড়া নেওয়ার খরচ বাবদ প্রায় ৫০,০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

১৯৪০-এর দশকে নির্মিত ওই দুটি ওয়াগনকে তিনধারিয়া ওয়ার্কশপে সংস্কার করা হয়েছে এবং ১৯২৫ সালে তৈরি একটি বাষ্পচালিত ইঞ্জিন সেগুলোকে টেনে নিয়ে যায়। এপ্রিল ও মে মাসের জন্য ইতিমধ্যেই বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। তিনধারিয়াতে আরও তিনটি ওয়াগন রয়েছে, চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে পুনরায় সচল করা যেতে পারে।