Digha Jagannath Temple: পুরীর ধাঁচে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ভোগপ্রসাদ এবার জাতীয় মানের শংসাপত্র পেতে চলেছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা fssai এর সিলমোহর পেতে চলেছে দীঘার জগন্নাথ মন্দির।
Digha Jagannath Temple: পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র সৈকত দিঘায় অবস্থিত জগন্নাথ মন্দির এখন জাতীয় স্বীকৃতির দোরগোড়ায়। যে মন্দির সাধারণ পর্যটক আর ভক্তদের কাছে আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে, সেই জগন্নাথ মন্দিরের ভোগ প্রসাদ এবার খাদ্য নিরাপত্তা ও মানের নিরিখে সরকারি ছাপ পেতে চলেছে। Food Safety and Standards Authority of India বা FSSAI-এর সিলমোহর পাওয়া মানে শুধু একটা লোগো নয়, এটা ভক্তদের জন্য একটা নিশ্চয়তা। মন্দিরে রান্না হওয়া খাবারের উপকরণ, রান্নার পদ্ধতি, পরিচ্ছন্নতা আর সংরক্ষণ সবকিছুই এখন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে হবে।
পুরীর মতোই নিয়ম দিঘায়
দিঘার জগন্নাথ মন্দির এমনিতেই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি, তাই ভোগ প্রসাদের ধরণও প্রায় একই। খিচুড়ি, পোলাও, লাবড়া, পায়েস আর নানারকম মিষ্টি এখানে নিত্যদিনের প্রসাদ। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই প্রসাদ গ্রহণ করেন, বিশেষ করে রথযাত্রা আর স্নানযাত্রার সময় ভিড় উপচে পড়ে। এত বড় পরিসরে খাবার পরিবেশন করতে গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা সবচেয়ে জরুরি। FSSAI-এর নজরদারি এলে রান্নাঘরের স্বচ্ছতা থেকে শুরু করে জল পরিশোধন, কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাবার সংরক্ষণের তাপমাত্রা সব কিছু নথিভুক্ত থাকবে। এর ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভোগ
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাস থেকেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের জন্য কুপনের বিনিময়ে ভোগ প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এই স্বীকৃতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ের পরিদর্শন ও অডিট শেষ হয়েছে। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্নার উপস্থিতিতে FSSAI-এর দুই সদস্যের এক প্রতিনিধি দল মন্দিরের অন্দরমহল ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে মন্দিরের রান্নাঘর, ভোগ তৈরির পদ্ধতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখা হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই নিবিড় পর্যালোচনায় প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে প্রতিনিধিদলটি। সূত্রের খবর, রান্নায় ব্যবহৃত জল থেকে শুরু করে কাঁচামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা- সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি এবং পোশাকের বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এদিনের পরিদর্শনের সমস্ত রিপোর্ট এবং নথিপত্র দিল্লির কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই মিলবে চূড়ান্ত অনুমোদন। এই স্বীকৃতির আরেকটা বড় দিক হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা যখন দেখবেন মন্দিরের প্রসাদে FSSAI-এর ছাপ আছে, তখন তাঁদের মনে একটা ভরসা তৈরি হবে। ধর্মীয় স্থানে খাবারের শুদ্ধতা নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের সঙ্গে আধ্যাত্মিক পবিত্রতা মিলে গেলে সেটা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হয়। পাশাপাশি এটা স্থানীয় অর্থনীতিকেও সাহায্য করবে। FSSAI-এর সার্টিফিকেশন পেলে দিঘার জগন্নাথ মন্দির জাতীয় তীর্থস্থান হিসেবে আরও বেশি প্রচার পাবে। পর্যটক বাড়লে স্থানীয় দোকানদার, মিষ্টি বিক্রেতা আর ছোট ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন। ধর্ম আর স্বাস্থ্য দুটোকে একসাথে ধরে রাখা সহজ নয়। দিঘার জগন্নাথ মন্দির সেই পথেই হাঁটছে। ভক্তির সঙ্গে যদি বিজ্ঞান আর স্বচ্ছতা যুক্ত হয়, তাহলে প্রসাদ শুধু পেট ভরায় না, মনেও শান্তি আনে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


