নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ে মর্মান্তিক ঘটনা। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতো মঙ্গলবার স্কুলে গরম চা খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই মারা যায়। প্রধান শিক্ষক স্বামী ইশতেশানন্দ বুধবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং গাফিলতির অভিযোগে সৌরভ তরু বিশ্বাস, সোমনাথ বৈরাগী ও সমরেশ ধারাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ে মর্মান্তিক ঘটনা। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতো মঙ্গলবার স্কুলে গরম চা খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই মারা যায়। প্রধান শিক্ষক স্বামী ইশতেশানন্দ বুধবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং গাফিলতির অভিযোগে সৌরভ তরু বিশ্বাস, সোমনাথ বৈরাগী ও সমরেশ ধারাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মৃত ছাত্রের পরিবার স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিুশ। দীপ্তাংশুর বাবা, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মনোরঞ্জন মাহাতো অভিযোগ করেছেন, “স্কুল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমি আমার ছেলেকে হারালাম। ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে তারা আমার আসার জন্য কেন অপেক্ষা করল? যদি তারা ওকে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করত, তাহলে ওর জীবন বাঁচানো যেত। ডাক্তার কেন ওকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে পরে এন্ডোস্কোপি করার পরামর্শ দিলেন, যেখানে ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পেত? আমার ছেলের পরিপাকতন্ত্রে গুরুতর পোড়া ক্ষত হয়েছিল, যার ফলে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। ওর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। অথচ, স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কোনও উদ্যোগই নেয়নি এবং আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানায়ওনি।”

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিক্ষকের চা নিয়ে যাওয়ার সময়ই ওই ফ্লাস্ক থেকে তা পান করে দীপ্তাংশু। সরাসরি গলায় ঢেলে দেওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই সে অসুস্থ বোধ করে। কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল। খেতেও পারছিল না। অসুস্থ ছাত্রকে তার বন্ধুরা প্রথমে নিয়ে গিয়েছিল হস্টেলের ডাক্তারের কাছে। তিনি দ্রুত তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অভিযোগ, হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে দুই হাউস মাস্টার তাকে হস্টেলেই দীর্ঘক্ষণ রেখে দেন। খবর দেওয়া হয় বাবা মনোরঞ্জন মাহাতকে। সেখান থেকে আসতেই দেড় ঘণ্টার উপর সময় লেগে যায় তাঁর। ছাত্রের বাবা আসার পর ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। ততক্ষণে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ থেকে রক্ত বেরোতে শুরু করেছে। তখনই দীপ্তাংশুকে মহামায়াতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখান থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি খারাপ। অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপরই বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই ছাত্রের।

মনোরঞ্জন মাহাতো বলেন, “আমি আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, চা খুব গরম বুঝতে পেরেও সে কেন তা গিলে ফেলেছিল। সে বলেছিল যে সে মেঝে নোংরা করতে চায়নি। হাউসমাস্টার কোথায় ছিলেন? তিনি কেন ছাত্রদের প্রতি উদাসীন ছিলেন?”

ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের একটি অংশ প্রধান শিক্ষক, হাউসমাস্টার, পিজি এবং হোস্টেলের কর্মীদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। প্রতি শুক্রবার মদ্যপ অবস্থায় নিয়মিত ছাত্রদের নির্যাতন করার অভিযোগে হোস্টেলের এক কর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র, অভিভাবক এবং মিশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীপ্তাংশুর বন্ধুরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এনআরএস হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করছে।