Durga Puja 2026: ছোটবেলা থেকেই হাতের কাজের প্রতি আগ্রহী জয়মাল্যর এই সৃষ্টি এবার পুজোয় স্থান পাবে পাড়ার মণ্ডপে। প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ, মহালয়ার দিন হবে চক্ষুদান। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঘিরে পুজোর আগেই স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

দুর্গাপুজোয় প্রতি বছরই দেখা যায় নানা অভিনব থিম ও প্রতিমা। কখনও পরিবেশবান্ধব উপকরণ, কখনও আবার অদ্ভুত সব জিনিস দিয়ে তৈরি হয় দেবী দুর্গার মূর্তি। তবে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক কলেজ পড়ুয়ার সৃষ্টিতে নজর কেড়েছে সকলের। মাটি কিংবা ফাইবার নয়, একেবারে রান্নাঘরের উপকরণ শুকনো লঙ্কা দিয়েই দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। অভিনব এই ‘লঙ্কা-দুর্গা’ দেখতে পুজোর আগেই এলাকায় বাড়ছে মানুষের কৌতূহল। জানা গিয়েছে, পাড়ার পুজোমণ্ডপে এবার এই প্রতিমাতেই পুজো হবে।

কে তৈরি করলেন লঙ্কা-দুর্গা?

সোনারপুরের বাসিন্দা জয়মাল্য মণ্ডল সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি হাতের কাজের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ। বাড়িতে বসেই কখনও ট্রেনের মডেল, কখনও এটিএম তৈরি করেছেন তিনি। দুর্গাপুজো এলেই তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে নতুন কিছু করার ভাবনা। কীভাবে চেনা প্রতিমাকে অন্য রূপে তুলে ধরা যায়, সেই চিন্তাতেই মেতে ওঠেন জয়মাল্য।

এর আগে মাটি দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। কিন্তু এবার এমন একটি উপকরণ বেছে নিতে চেয়েছিলেন, যা দিয়ে প্রতিমা তৈরির ভাবনা সচরাচর দেখা যায় না। সেই ইচ্ছা থেকেই শুরু হয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

রান্নাঘরের শুকনো লঙ্কা থেকেই এল ভাবনা

প্রথমে তেজপাতা ও দেশলাই কাঠির মতো বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে প্রতিমা তৈরির কথা ভেবেছিলেন জয়মাল্য। শেষ পর্যন্ত রান্নাঘরে রাখা শুকনো লঙ্কাই তাঁর নজর কাড়ে। লাল টকটকে লঙ্কা দিয়ে দেবী দুর্গার মূর্তি গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এরপর শুরু হয় একটানা পরিশ্রম। ধীরে ধীরে শুকনো লঙ্কা দিয়ে তৈরি হতে থাকে দশভুজার অবয়ব। জয়মাল্য জানিয়েছেন, প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ। শুধু চোখ আঁকা বাকি রয়েছে। মহালয়ার দিন দেবীর চক্ষুদান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তারপর পাড়ার মণ্ডপেই এই অভিনব প্রতিমার পুজো হবে।

ছেলের সৃষ্টিতে পাশে পরিবার

জয়মাল্যর এই সৃজনশীল কাজের পিছনে পরিবারেরও যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। তাঁর বাবা রঞ্জিত মণ্ডল পেশায় শিক্ষক। পরিবারের বক্তব্য, জয়মাল্য কোথাও আলাদা করে হাতের কাজ শেখেননি। নিজে নিজেই ইউটিউব দেখে এবং নিজের ভাবনা কাজে লাগিয়ে নানা জিনিস তৈরি করেন তিনি।

জয়মাল্যর দিদি ভূমিকা মণ্ডল জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো এলেই তাঁর ভাইয়ের মাথায় নতুন নতুন ভাবনা আসে। আগের বছরের কাজকে ছাপিয়ে কীভাবে আরও অভিনব কিছু করা যায়, সেই চেষ্টাই করেন তিনি। এবারের লঙ্কা-দুর্গা সেই সৃজনশীল ভাবনারই ফল।

পুজোর আগেই বাড়ছে কৌতূহল

শুকনো লঙ্কা দিয়ে তৈরি দুর্গা প্রতিমা দেখতে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, এই অভিনব প্রতিমাকে ঘিরে পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে।

প্রতিমা তৈরির এই উদ্যোগ শুধু অভিনবত্বের জন্যই নয়, জয়মাল্যর সৃজনশীল চিন্তাভাবনার জন্যও নজর কেড়েছে। এখন দেখার, পুজোর দিনগুলিতে এই ‘লঙ্কা-দুর্গা’ দর্শনার্থীদের কতটা আকর্ষণ করতে পারে।