ECI Orders: পশ্চিমবঙ্গে অবাধ, স্বচ্ছ এবং ভয়মুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মালদায় বিচারকদের পণবন্দি করার ঘটনার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। 

পশ্চিমবঙ্গে যাতে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করানো যায়, তার জন্য রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং অন্যান্য বরিষ্ঠ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশ দিয়েছেন। বিভাগীয় কমিশনার, এডিজিপি, আইজি, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, এসএসপি এবং এসপিদেরও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সাফ কথা

কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনওরকম ভয়ভীতি, হিংসা, হুমকি, প্রলোভন, বুথ দখল বা ভোটদানে বাধা বরদাস্ত করা হবে না। এই কড়া নির্দেশের পিছনে রয়েছে মালদার কালিয়াচকের সাম্প্রতিক ঘটনা। গত ১ এপ্রিল মালদা জেলায় ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীরা তিনজন মহিলা-সহ সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে পণবন্দি করে রাখে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার অধীনে এই ঘটনা ঘটে। রাজ্যে এই SIR প্রক্রিয়া ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তীব্র বিরোধিতা করে অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মালদার ওই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শুক্রবারই এনআইএ-র একটি দল পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর কথা। গত ২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন একটি চিঠিতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে এনআইএ-কে বুধবারের ওই ঘটনার তদন্ত করতে বলে। চিঠি অনুযায়ী, এনআইএ-কে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভার্চুয়ালি হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনাকে "বিচারব্যবস্থায় বাধা দেওয়ার একটি নির্লজ্জ ও ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা" বলে বর্ণনা করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আগে থেকে খবর থাকা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন দ্রুত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ওই অফিসাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার বা জল ছাড়াই আটকে ছিলেন।

আদালত রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের শো-কজ নোটিশ জারি করে তাঁদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি, জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষা এবং SIR প্রক্রিয়ার কাজ মসৃণভাবে চালানোর জন্য পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে আট দফায় ভোট হয়েছিল। সেই ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন পেয়ে বিপুল জয়লাভ করে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বিজেপি ৭৭টি আসন পায়। কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একটিও আসন পায়নি।