Farmer Mystery Death: বিধানসভা নির্বাচনের (2026 West Bengal Legislative Assembly election) মুখে রাজ্যের কৃষকরা ভালো নেই। দক্ষিণবঙ্গে যেমন আলু চাষিরা লোকসানের মুখে, তেমনই উত্তরবঙ্গেও কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে এক কৃষকের মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
KNOW
West Bengal News: সাতসকালে এক কৃষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের কুর্শামারি অঞ্চলে। মৃত কৃষকের নাম পরেশ সরকার (৬০)। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয় স্থানীয় থানায়। খবর পেয়ে ডাউকিমারি ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরিবারের দাবি, চলতি বছরে তাঁর চাষ করা জমির ফসল ভালো হয়নি। বিশেষ করে ভুট্টা চাষে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন তিনি। আর্থিক চাপ ও মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
তদন্ত শুরু পুলিশের
ধূপগুড়িতে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলেছেন, পরেশবাবু শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং নিয়মিত চাষবাস করতেন। তাঁর এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করছেন পুলিশকর্মীরা। চাষে লোকসান হওয়ায় অবসাদেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন এই কৃষক।
লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না কৃষকরা
উত্তরবঙ্গের মতোই দক্ষিণবঙ্গেও কৃষকদের একই অবস্থা। রাজ্য সরকার ও শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। হুগলি জেলার আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে বেরিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ টের পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মিতা বাগ। এক চাষি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, আলুর দাম নেই। সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে রফতানিতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে চাষিরা চরম সংকটে পড়ছেন। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, 'চাষি কেন মরছে?' এক চাষির স্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, তাঁর স্বামী দিনরাত মাঠে খেটে সংসার চালান। সেই কষ্টের টাকায় ছেলেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়েছেন। এমনকী, তিন লক্ষ টাকা খরচ করে ট্রেনিংও করিয়েছেন। তবুও এখনও চাকরি জোটেনি। ছেলের বিয়েও দিতে পারছেন না। হতাশার সুরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, 'যে চাকরি দেবে, তাকেই ভোট দেব।'
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


