উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত। ছেলের মৃত্য়ুতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নিহতের মা ও বাবা। পুলিশের পদক্ষেপকে স্বাগত নির্যাতিতার পরিবারের
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের এনকাউন্টারে মারা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ক্রাইম সিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে।
গাইঘাটা এনকাউন্টার
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় প্রহ্লাদ আচমকাই এক অফিসারের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয়। এরপর সে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তার গুলিতে এক পুলিশকর্মী আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও তখন পালটা গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে গুরুতর জখম হয় প্রহ্লাদ। তাকে দ্রুত চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে এই এনকাউন্টারের বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি।
নিহত প্রহ্লাদ দাসের বাবা ও মায়ের প্রতিক্রিয়া
নিহত প্রহ্লাদ দাসের মা রেখা দাস জানিয়েছেন, সন্তান হিসেবে তাঁর কষ্ট হচ্ছে । তবে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি এই শাস্তিতে খুশি হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে যদি এমন কিছু হতো তাহলে তিনিও এই শাস্তি চাইতেন। আশা করেন আর কোনও ছেলে এমন ঘৃণ্য অপরাধ করবে না। তিমি আরও বলেন, 'ও অন্যায় করেছে। তার সাজা পেয়েছে।' নিহত প্রহ্লাদ দাসের বাবাও ছেলের এনকাউন্টারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশের কাজে তিনি খুশি হয়েছেন।
নির্যাতিতার পরিবারের প্রতিক্রিয়া
পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তবে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, "পুলিশ এনকাউন্টার করেছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু এতে কি আমার মেয়ে ফিরে আসবে? তবুও পুলিশ যা করেছে, ঠিক করেছে। মুখ্যমন্ত্রী খুব ভালো কাজ করেছেন। আমরা যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, অন্য কোনও বাবা-মাকে যেন তা সহ্য করতে না হয়। এই ধরনের ঘটনায় পুলিশের উচিত সঙ্গে সঙ্গে এনকাউন্টার করা।"
নির্যাতিতার কাকুও পুলিশের এই পদক্ষেপে খুশি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "যা ঘটেছে তা খুবই মর্মান্তিক। এনকাউন্টার হওয়াটা ভালো হয়েছে। আমরা ভাবতেই পারিনি এত তাড়াতাড়ি এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের পাশে থাকার জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা খুশি। পুলিশ আমাদের খুব সাহায্য করেছে।" তিনি আরও বলেন, "ও আমার ভাইঝি ছিল, আমার চোখের সামনে বড় হয়েছে। আমি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি।"
কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন!
গত রবিবার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে ওই ১৭ বছরের কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহটি নগ্ন ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে ওই দিনই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বনগাঁ জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং একটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, এই এনকাউন্টারের কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে এনকাউন্টারের রাজনীতি আমদানি করছে। তিনি বলেন, "বিজেপি আসলে কোনও রাজনৈতিক দলই নয়। এটা এনকাউন্টারের দল। উত্তরপ্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে আপনারা যা দেখছেন, এখন বাংলাতেও সেটাই হচ্ছে।" বিজেপির শৃঙ্খলার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, "প্রতিদিন ওদের দলের সভাপতি এবং শীর্ষ নেতারা দাবি করেন যে, তাদের দল খুব সুশৃঙ্খল এবং চমৎকার। তারা নাকি কোনও খারাপ লোক বা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয় না। এই ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আমাদের রাজ্যটা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।"


