মুর্শিদাবাদবাসীর জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে খুশির খবর শোনালো জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। ভারত বাংলা সীমান্তের মুর্শিদাবাদ জেলায় কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় ৪০হাজার করোনার ভ্যাকসিন আসছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনের সবুজ সংকেত মেলার পরেই ওই ভ্যাকসিন  প্রয়োগের জন্য জেলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয় । স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ধাপে আসা ওই ৪০হাজার ভ্যাকসিন সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া হবে। এছাড়া আইসিডিএস কর্মীরাও প্রথম ধাপে টিকা পাবেন। তাঁদের তালিকা অনেক আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। 

দ্বিতীয় ধাপে পুলিস সহ অন্যান্যরা টিকা পাবেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন রোগে ভুগতে থাকা ও বয়স্করা এই টিকা পেতে পারেন। এই ব্যাপারে  মুর্শিদাবাদের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, টিকাকরণের সমস্ত প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই ভ্যাকসিন চলে আসবে বলে আশা করা যায়। ভ্যাকসিন আসার খবরে এদিন জেলার সর্বত্র খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বহরমপুরের বাসিন্দা চন্দন রায়  বলেন, অবশেষে স্বস্তি পেতে চলেছে জেলাবাসী।এই পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো খবর আর কিছু হতে পারে না। খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছিল। বিশেষ করে বাড়ির বয়স্ক লোকজনদের নিয়ে সকলেই খুব চিন্তায় ছিলেন। তার অবসান ঘটতে চলেছে"। লালবাগ মহাকুমার আদালতের বিশিষ্ট ক্রিমিনাল লইয়ার দেবাঞ্জন মজুমদার  বলেন, এই সু খবর শোনার জন্য আমরা সকলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছিলাম। স্বাস্থ্যকর্মীরা  ফ্রন্টে থেকে লড়াই করেছেন। তাই তাঁদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক। এরপর বাকিদেরও ধাপে ধাপে টিকাকরণ করা হবে বলে শুনেছি"।

মুখ্যমন্ত্রীর রাজভবন সফরের পরপরই রাজ্যপালকে দিল্লিতে তলব, শনিবার বৈঠক অমিত শাহর সঙ্গে ...

অধরা সমাধান সূত্র, কৃষকদের সঙ্গে কেন্দ্রের 'জেদ' কি জট কাটাবে নবম দফার আলোচনায় ...

স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় এখনও পর্যন্ত ১০হাজার ৬৩৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার বাইরে গিয়ে আরও ৪৪৫জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই জেলার বহু মানুষ বিদেশেও রয়েছেন। তাঁদেরও অনেকেই আক্রান্ত হওয়ায় দেশে ফিরতে পারেনি। মুর্শিদাবাদে এখনও পর্যন্ত ১৪৪ জন মারা গিয়েছেন। করোনা হাসপাতালে এখনও ২৮জনের চিকিৎসা চলছে। বাড়িতে ১৫৫জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে টিকাকরণ করা হবে। ওইসমস্ত জায়গাগুলিতে কোল্ড চেন পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন রাখা হবে। সুষ্ঠুভাবে টিকাকরণের জন্য প্রতিটি ব্লকে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। তাতে সরকারি আধিকারিকরা ছাড়াও জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এক আধিকারিক বলেন, টিকা আসার পর যাতে বিশৃঙ্খলা না হয় তার জন্য এই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গেও দফায় দফায় বৈঠক করবেন। এদিকে ভ্যাকসিন আসার পর একদিনও যাতে বসে থাকতে না হয় তারজন্য সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে। যাঁরা প্রথমে ভ্যাকসিন পাবেন তাঁদের নামের তালিকা তৈরি হয়ে রয়েছে।