ADHIR & SUVENDU: ক্ষমতায় এসেই শুভেুন্দু অধিকারীর সরকার পশু জবাই ও মাংস বিক্রির নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সংখ্যালঘু মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েই প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী চিঠি লিখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।
ক্ষমতায় এসেই শুভেুন্দু অধিকারীর সরকার পশু জবাই ও মাংস বিক্রির নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। নতুন নির্দেশিকায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। সামনেই কোরবানির ইদ। সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদের মত সংখ্য়ালধু অধ্যুষিত জেলায় ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকয় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এবার সেই সংখ্যালঘু মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েই প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী চিঠি লিখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।

অধীর চৌধুরীর চিঠি শুভেন্দু অধিকারীকে
চিঠিতে অধীর চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে পশুবলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য একটি পাবলিক নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পরে সাধারণ মানুষের মনে নানা বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। অধীরের মতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাকার স্বার্থে এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া অত্যান্ত জরুরি।
মুর্শিদাবাদের বিশেষত্ব
মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অধীর চৌধুরী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ একটি বহু সাংস্কৃতিক ও বৈচিত্র্যময় রাজ্য। এই রাজ্যে বিভিন্ন মানুষের বাস। এই প্রসঙ্গ তুলে অধীর মুর্শিদাবাদ জেলার ভৌগলিক ও সামাজিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন. তিনি বলেন, 'মুর্শিদাবাদ এমন একটি জেলা যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষই জনসংখ্যার সিংহভাগ। ফলে এই নতুন সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে স্বভাবতই ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।'
অধীরের প্রস্তাব
চিঠিতে অধীর বলেছেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে কোনও রকম দ্বিধা ও সমস্যা ছাড়াই তাঁদের সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন তার জন্য একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, মুর্শিদাবাদের মত জেলাগুলির জেলা প্রশাসনের উচিৎ আগে থেকেই পশু জবাইয়ের জন্য কিছু স্থান নির্দিষ্ট করা। যেখানে মানুষ তাদের ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেছেন, এই নির্দিষ্ট স্থানগুলি যেন শুধুমাত্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রথাগত ও ঐতিহ্যের আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্যই ব্যবহার করা হয়।
অধীরের মতে এই নিয়ম পালন করতে সাধারণ মানুষের পক্ষে যেমন সরকারি নির্দেশ পালন করা সম্ভব হবে তেমনই কোনও বিভ্রান্তিও ছড়াবে। সংখ্যালঘু মানুষের মন থেকে আতঙ্ক দূর হবে।
আধীরের আশা
প্রাক্তন সাংসদ চিঠির শেষে আশা প্রকাশ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই সংবেদনশীল বিষএ হস্তক্ষেপ করবেন। জেলা জুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা ও আতঙ্কের দ্রুত অবস্থান ঘটাবেন।


