উত্তরবঙ্গের পুনরাবৃত্তি এবার উত্তর চব্বিশ পরগণায়। আবারও রাজ্যপালের ডাকা বৈঠকে হাজির হলেন না প্রশাসনিক কর্তারা। রাজভবনে চিঠি দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জেলাশাসকরা জানিয়ে দিলেন, রাজ্য সরকারের অনুমতি না পাওয়াতেই রাজ্য়পালের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত হতে পারছেন না তাঁরা। ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, 'আমি রাজ্য সরকারের অধস্তন নই যে আমার ডাকা বৈঠকে আসতে গেলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।'

মঙ্গলবার থেকে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জেলা সফরে বেরিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মূলত দুই জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখার কথা তাঁর। জেলা সফরের সময় জেলাশাসক-সহ উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন ধনখড়। কিন্তু জেলাশাসক- সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা না আসায় সেই বৈঠক এ দিন ভেস্তে যায়। যার ফলে প্রবল ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। 

রাজ্যপালের অভিযোগ, রাজভবন থেকে খবর দেওয়ার চার দিন পর সোমবার দুই জেলার জেলাশাসক রাজভবনে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা রাজ্যপালের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া তাঁদের পক্ষে প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির থাকা সম্ভব নয় বলেও দুই জেলাশাসক জানিয়ে দিয়েছেন। যুক্তি হিসেবে তাঁরা বলেছেন, যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন, তাই রাজ্য প্রশাসনের সব শীর্ষ কর্তাই তাঁর সঙ্গে সেখানে গিয়েছেন। ফলে কোনওভাবেই অনুমতি পাওয়া সম্ভব হয়নি। 

আরও পড়ুন- 'অধস্তন নই', সরকারের আচরণে প্রবল ক্ষুব্ধ ধনখড়, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন- জেড প্লাস নিরাপত্তা পাবেন রাজ্যপাল, পুলিশের বদলে থাকবে আধাসেনা

আরও পড়ুন- কার্নিভালে ডেকে অপমানের অভিযোগ, রাজ্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ রাজ্যপালের

ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল বলেন, 'চারদিন পর দুই জেলাশাসকই একসঙ্গে একধরনের চিঠি পাঠিয়ে বলছেন রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া তাঁরা আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। এটা খুবই ভয়ঙ্কর এবং উদ্বেগের বিষয়। তাঁরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন বলে নাকি তাঁরা অনুমতি জোগাড় করতে পারেননি।'

রাজ্যপাল আরও অভিযোগ করেছেন, তিনি ওই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফে জনপ্রতিনিধিদেরকে তাঁর বৈঠক সম্পর্কে কিছু জানানোই হয়নি। রাজ্যপাল যখন এমন অভিযোগ করছেন তখন সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত অভিযোগ করে বলেন, রাজ্যপালের বৈঠকে যাওয়ার জন্য তাঁদেরকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। জেলা সফরের নামে এলাকায় এসে রাজনীতি করছেন রাজ্যপাল। 

প্রসঙ্গত গত মাসে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন জগদীপ ধনখড়। সেখানেও তাঁর ডাকা বৈঠকে হাজির হননি প্রশাসনিক কর্তারা। এ রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্য সরকার এবং শাসক দলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন ধনখড়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কাণ্ড থেকে শুরু করে সম্প্রতি রাজ্যরপালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সিআরপিএফ-কে দেওয়া, সব বিষয়েই রাজ্যের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা গিয়েছে তাঁর। রাজ্যের মন্ত্রীরাও প্রকাশ্যেই তাঁকে আক্রমণ করেছেন। এই অবস্থায় দুই জেলা সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত আরও বেড়ে গেল।