জ্যোতি বসুর ফেলে দেওয়া তখতে- তিনি ছিলেন বামফ্রন্টের উত্তরসূরী। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সৌম্যদর্শন চেহারা ধুতি- পঞ্জাবী পরিহিত এক ব্যক্তিত্বের তীব্র আনাগোনায় সরগরম হয়ে থাকত মহাকরণের অলিন্দ। মুখে সিগারেট, তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ, পাশাপাশি আর্থ- সামাজিক পরিস্থিতি থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর জ্ঞান-কেও সকলে কুর্নিশ করতেন। 

বামফ্রন্টের আমলে রাজ্যজুড়ে যে অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল তাকে কাটাতেও উদ্যোগী হয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সিঙ্গুর জমি আন্দোলন থেকে, নন্দীগ্রাম আন্দোলন, নেতাই কাণ্ড ঘটেছিল বুদ্ধদেবের মুখ্যমন্ত্রীত্বের জমানাতেই। এই সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম ইস্যু-ই পশ্চিমবঙ্গের বুকে বামফ্রন্টের দীর্ঘ ৩৩ বছরের শাসনে অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নিয়েছিল। যার পরিণাম ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতা থেকে বামফ্রন্টের বিদায় ঘটে এবং সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীত্ব হারান বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তবুও বাংলার রাজ্য রাজনীতির এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে রয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এখন কেমন আছেন?এই প্রশ্ন বারবারই সর্ব সমক্ষে উঠে এসেছে। দীর্ঘ রোগ-ভোগের কারণে এবং বয়সের জন্য বুদ্ধদেবের আনাগোনা শুধুমাত্র তার পাম অ্যাভিনিউ-এর বাড়ির অন্দরেই সীমাবদ্ধ। এর জন্য আলিমুদ্দিনেও এখন আর যেতে পারেন না সিপিএম-এর এই একনিষ্ঠ কর্মী। 

আলিমুদ্দিন থেকে বহু ফোনই আসে পাম অ্যাভিন্যুয়ের বাড়িতে। এর মধ্যে অধিকাংশটাই থাকে রাজ্যে বাম আন্দোলন কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে সেই সম্পর্কে। সকলেই বুদ্ধদেবের সন্দর্শনের আশায় থাকেন। তবুও অনেকেই তাঁদের প্রিয় নেতার বর্তমান নেতার চেহারা দেখার সৌভাগ্যও পান না। সেই বুদ্ধদেবের ছবি এবার এল প্রকাশ্যে।   সৌজন্যে পশ্চিম বঙ্গের বর্তমান রাজ্যপাল জগদীব ধনকড়। বুধবার বিকেলে আটচমকাই বালিগঞ্জের পাম অ্যাভিন্যুয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন রাজ্যপাল। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যপালের স্ত্রী সুদেশ ধনকড়। প্রায় মিনিট পচিশেক  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্ষের বাড়িতে ছিলেন রাজ্যপাল এবং তাঁর স্ত্রী।

বুদ্ধদেবের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্ষের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ আলাপচারিতা করেন রাজ্যপালের স্ত্রী। বুদ্ধদেবের সঙ্গেও সৌজন্যমুলক  আলাপচারিতা করেন রাজ্যপাল। এই সৌজন্যমুলক সাক্ষাতকারের যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে তাতে বাঙালির সেই চির পরিচিত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের চেহারার কোনও মিল নেই, বোঝাই যাচ্ছে, হৃদযন্ত্রের অসুখ ও শরীরের বিভিন্ন অসুবিধা তার সেই সৌম্যকান্তি চেহারায় থাবা বসিয়েছে। একপাশ থেকে তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে বুদ্ধদেব ভটার্ষের মাথার চুল বেশ ছোট করেই ছাঁটা, মুখে ছোট্ট একটে ফ্রেঞ্চ কাটের আদল রয়েছে। রোগভোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শয়ন শয্যাতেও যে পরিবর্তন এসেছে তাঁর প্রমাণ মেডিক্যাল বেড। 

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্ষের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় জানান এটা একটা সৌজন্যমুলক সাক্ষাতকার ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে চেনেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্বভার নিয়ে কলকাতায় রাজভবনে  অধিষ্ঠান করলেও বুদ্ধদেবের সঙ্গে সাক্ষাতে তাঁর মন ছিল ব্যাকুল। দীর্ঘ দিনের পরিচিত রাজনৈতিক বন্ধুর শরীরের হাল-হকিকত জানতে তিনি তৎপর ছিলেন আর সেইজন্য পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে স্ব-স্ত্রীক হাজির হয়েছিলেন বুদ্ধদেবের পাম অ্যাভিন্যুয়ের ফ্ল্যাটে। 

১৯৮৯ সালে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং-এর জনতা সরকারে অন্যতম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন জগদীপ ধনকড়। পরবর্তী সময়ে তিনি কংগ্রেসের সাংসদও হয়েছিলেন, জানা গিয়েছে,দিল্লিতেই বুদ্ধদেব ও জগদীপের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সন্দেহ নেই রাজ্যপালের জন্যই আজ কিছুটা হলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবিটা প্রকাশ্যে ধরা পড়ল।