তারাপীঠের বিদেশিনী লজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ আশিল পালকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বক্তব্যে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, যদিও মূল মালিক পলাতক।

গ্রেফতার হল তারাপীঠের জতুগৃহ বিদেশিনী লজের মালিকের ছেলে। ধৃতের নাম কল্যাণ আশিল পাল। সোমবার দুপুরেই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। টানা জেরায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। হোটেল মালিক তাপস পাল পলাতক। তাঁর খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের আজ আলাদলতে তোলা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই লজের সার্বিক নিরাপত্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশও নিজের মতো তদন্ত করছে। একই সঙ্গে তারাপীঠের অন্যান্য আবাসনগুলোতে বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবার বৈদ্যুতিন তার, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, মিটার, আর্থিং, অনুমোদিত লোডের পাশাপাশি ফায়ার এক্সটিংগুইশার, হাইড্রান্ট, পাম্প, জলের মজুত, হোস রিল, ফায়ার অ্যালার্ম, জরুরি আলো, ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। সব হোটেলে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র আছে কি না তা দেখা হবে। জানা গিয়েছে, কৌশিকী অমাবস্যার আগে কয়েকটি হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে বন্ধও করা হতে পারে।

এদিকে তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৯। জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭ জন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, ডিআইজি বর্ধমান রেঞ্জ শ্রীহরি পাণ্ডে, জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার বিদীত রাজ ভুন্দেশ-সহ জেলা পুলিশ, প্রশাসন ও দমকলের শীর্ষ কর্তারা।

এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার বিদীত রাজ ভুন্দেশ বলেন, ঘটনাস্থল সিল করা হয়েছে। হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। হোটেল মালিকের ছেলে গ্রেফতার। জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বক্তব্যে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, যদিও মূল মালিক পলাতক। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার অন্যান্য হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখছে।